শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভোজিনহা। স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দলটি ২৭টি শট নিয়েও একটি গোল করতে পারলো না। কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের বীরত্ব নিয়ে তো আলাদা করে আলোচনা হবেই।
Advertisement
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নায়ক যে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। এই অভিজ্ঞ তারকা ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত সব সেভ করে স্পেনের আক্রমণভাগকে হতাশ করেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হয় স্প্যানিশদের।
পুরো ম্যাচে মাত্র ২৬ শতাংশ বলের দখল ছিল কেপ ভার্দের। তবুও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং ভোজিনহার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কারণে স্পেন গোলের দেখা পায়নি। এমনকি বদলি হিসেবে নামা তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন।
ম্যাচে ভোজিনিয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং তিনটি সফল হাই ক্লেইম করেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৪০ বছরের বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এমন কীর্তি গড়েছেন খুব কমজন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের হয়ে ১০টি সেভ করেছিলেন কিংবদন্তি প্যাট জেনিংস।
Advertisement
বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয়-ক্ষুদ্রতম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে কেপ ভার্দে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই দেশটির জন্য স্পেনের বিপক্ষে ড্র শুধু একটি ফল নয়, বরং জাতীয় গৌরবের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝড় তুলেছেন ভোজিনিয়া। ম্যাচ চলাকালীন ব্রাজিলের জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কেজে টিভি’ দর্শকদের তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করার আহ্বান জানায়। শুরুতে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ অনুসারী, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা তার বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
বর্তমানে ভোজিনহা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব জি.ডি. শাভেসের হয়ে খেলেন। তবে স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচের পর তিনি কেবল কেপ ভার্দের নয়, বিশ্ব ফুটবলেরও নতুন নায়ক হয়ে উঠেছেন।
Advertisement
এমএমআর