লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তরেস- নামগুলোর ভারেই কেপ ভার্দের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু গোলবারের সামনে দলনেতা হিসেবে যেন অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছেল কেপ ভার্দের গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোজিনহা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে কোনো গোলই করতে দেয়নি কেপ ভার্দে।
Advertisement
স্পেনের নেওয়া ২৭টি শটের মধ্যে ৭টি ছিল গোলমুখে, যার সবগুলোই কখনো ডানে, কখনো বামে বা কখনো লাফিয়ে ঝাঁপ দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন জনসংখ্যার দেশটির গোলবার সামলানো কে এই ভোজিনহা, তা ইতোমধ্যে মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে।
২৫ বছর পর্যন্ত পেশাদার ফুটবলই খেলতেন না এই গোলরক্ষক। জন্মের পর কখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে একসাথে থাকতে পারেননি। বাবা চাকরি করতেন সেনাবাহিনীতে এবং মা মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। তাই বেশিরভাগ সময়েই তিনি থাকতেন দাদা-দাদীর সাথে। তার জার্সিতে লেখা 'ভোজিনহা' নামটি তার ডাক নাম, যা রেখেছিলেন তার দাদা-দাদী।
আফ্রিকার দেশ এঙ্গোলাতে নিজের প্রথম পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। এবারের বিশ্বকাপে ভোজিনহাই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্ক গোলরক্ষক। ৪০ বছর বয়সে তার বিশ্বকাপে অভিষেক হলো স্পেনের বিপক্ষে।
Advertisement
বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লাব সিভাসে খেলছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। দেশকে প্রথমবার বিশ্বকাপে তুলে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে যেন বীরের খ্যাতিতে সিক্ত হচ্ছেন নবাগত কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে চোখের অশ্রু বুঝিয়ে দিলো, দেশের প্রতি কতটা নিবেদন তার!
আরআর/এমএমআর