ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলএসডিতে (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নির্মাণাধীন দুটি খাদ্যগুদামের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রেখে উধাও ঠিকাদার। এতে নির্মাণাধীন স্থাপনার গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
Advertisement
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলনের পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সাত থেকে আট মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনের পিলার নির্মাণের জন্য স্থাপন করা রডে মরিচা ধরেছে। এতে নির্মাণাধীন স্থাপনার গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মরিচাধরা রড ব্যবহার করে ভবনের পিলার নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের মতে, লোহা বা রড দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় বাতাস ও পানির সংস্পর্শে থাকলে মরিচা ধরে এবং এর শক্তি কমে যেতে পারে। ফলে নির্মাণকাজে ব্যবহারের আগে এসব রডের গুণগত মান পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
Advertisement
গৌরীপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাল হোসেন বলেন, প্রায় সাত-আট মাস ধরে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্থানীয় কৃষক ও রাইস মিল মালিকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় গৌরীপুর এলএসডিতে দুটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি যৌথভাবে কার্যাদেশ পায় কিশোরগঞ্জের এমএস স্বপ্না ট্রেডার্স এবং গৌরীপুরের এমএস হাফেজ এন্টারপ্রাইজ।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখনো গুদামের নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে আছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে একাধিকবার সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হলেও কাজের গতি বাড়েনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী তপন কুমার দাস বলেন, কাজের অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হতে পারে। এখানে ৬০ শতাংশ বিল দেওয়ার সুযোগ নেই। ঠিকাদার কিছু কাজের বিপরীতে বিল নিয়েছেন। তাকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়েছিল, কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেননি।
Advertisement
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার হাফেজ আজিজুল হক বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র একটি বিল হয়েছে। কাজের তুলনায় অর্ধেক বিল পেয়েছি। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ আবার শুরু করা হবে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যগুদাম প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় স্থানীয় কৃষক, খাদ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করে প্রকল্প সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এএসএম