চার বছর ধরে ত্রিশাল পৌরসভার দাবি করা পৌরকর পরিশোধ না করায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। একাধিক তাগিদপত্র পাঠানোর পরও বকেয়া কর পরিশোধ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Advertisement
ত্রিশাল পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে হোল্ডিং কর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পৌর সেবার বিপরীতে কর আদায় করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বকেয়া করের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
পৌরসভা সূত্র জানায়, বকেয়া কর আদায়ের জন্য উপাচার্য বরাবর অন্তত আটটি তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌরসভার বাজেট বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত এক সভায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। এরপরও কর পরিশোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরকর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন রয়েছে।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর আরোপের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও সরকারি নীতিমালার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কর পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পৌরসভা বিশ্ববিদ্যালয়কে কী ধরনের নাগরিক সুবিধা দিচ্ছে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই নিজস্বভাবে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে। পৌরসভার প্রত্যক্ষ সেবা কতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও মূল্যায়নের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যদি কর পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বিবেচনার বিষয়টিও সামনে রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী জাগে নিউজকে বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পৌরকর পরিশোধ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে কর বকেয়া থাকায় পৌরসভার রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও প্রভাব পড়ছে।
Advertisement
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরসভার মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উভয় পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/জেআইএম