অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারচক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
Advertisement
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি আভিযানিক দল গতাকাল সোমবার (১৫ জুন) নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- রায়হান খান (২১), পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিপিসি দেখতে পায়, দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়।
Advertisement
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। অভিযুক্তরা অংশগ্রহণকারীদের এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত ও নির্দেশনা দিতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত হয়ে তা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
সিআইডির ভাষ্য, গ্রেফতাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত এবং সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করতো। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
মামলার তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
Advertisement
সিআইডি জানায়, গ্রেফতার রায়হান খান ও আবু জোবায়ের সানি নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার সাইটে সক্রিয় রেখে কমিশন নিতেন। অন্যদিকে পাভেল রহমান ভূইয়া বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
এর আগে, একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও তিন সদস্য মো. সোলায়মান (৪৭), সাগর মিয়া (২৮) ও জুয়েল রানাকে (৩২) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে সিআইডি।
টিটি/এমকেআর