অর্থনীতি

সূচকের সঙ্গে কমলো লেনদেন 

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিললেও তৃতীয় কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি মূল্যসূচকও কমেছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।  

Advertisement

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই উত্থান তো পরক্ষণেই পতন— এভাবে চলতে থাকে লেনদেন। তবে শেষ দেড় ঘণ্টা বাজারে ঢালাও দরপতন হয়। এতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি সবকয়টি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।  

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪০টির এবং ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৩টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

Advertisement

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১২৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।  

আরও পড়ুন ইউরোপে পোশাক রপ্তানির আয় তিন মাসে কমেছে ২০ শতাংশ

মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় এক হাজার ৪৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৬০ কোটি ১ লাখ টাকা।  

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৩ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫২ কোটি ২৯ লাখ টাকার। ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স।  

Advertisement

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ফাইন ফুডস, বেক্সিমকো ফার্মা, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ইভিন্স টেক্সটাইল, বিডি থাই ফুড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং ন্যাশনাল ফিড মিলস।  

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১২৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৩টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এমএএস/কেএসআর