রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং থানার ওসি ও এসআইকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবুকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
Advertisement
এ ঘটনায় আরও গ্রেফতার হয়েছেন কবজিকাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির ও মো. তরিকুল ইসলাম।
র্যাব বলছে, কবজিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদের গুরু এক্সেল বাবু। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আটক না করা পর্যন্ত আমরা একটু অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই।
মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, চাপাতি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
Advertisement
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি বলেন, ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় আদাবর থানাধীন শেখেরটেক-৭ নম্বর এলাকার একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা বিকাশ এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তারা দোকানির কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টাগুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে তাৎক্ষণিক অভিযানে আমির ও রুবেলসহ ছয় ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পর চক্রের মূলহোতাসহ অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
Advertisement
এর ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের ৬০ ফিটের পীরেরবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’, ছিনতাইকারী চক্রের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদ রাশেদ, খন্দকার মোহাম্মদ মিল্টন, মো. তোসির ও তারিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন আদাবর থানার ওসি-এসআইকে কুপিয়ে জখমকবজিকাটা গ্রুপের সঙ্গে এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততার বিষয় জানতে চাইলে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, কবজিকাটা গ্রুপের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততা সে নিজেই স্বীকার করেছে। এক্সেল বাবু কবজিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাঈদের গুরু। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আটক করতে পারবো না, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো অ্যাকটিভ হতে থাকবে। এ কারণে আমরা একটু অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই।
এ ধরনের ছিনতাইকারী ও অপরাধ কন্ট্রোল করা এবং দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয় র্যাব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি পল্লবীতে একটি শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলা খুব দ্রুত সময়ে আদালতে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রসেস যদি ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যদি এটা করা যেত তাহলে আমার মনে হয় জনগণ আরও বেশি নিরাপদবোধ করতো। শুধু আমরা (র্যাব) আটক করি, তদন্ত করি। পুরো প্রচেষ্টা ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটা অংশ। বাকি সিস্টেম যারা সংশ্লিষ্ট তারা ভেবে দেখতে পারে। আমার মনে হয় এতে করে আমরা উপকৃত হব।
মোহাম্মদপুরকে বলা হয় অপরাধের হাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার কারণে মোহাম্মদপুরে অপরাধীরা সক্রিয় হচ্ছে কি না জানতে চাইলে র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোহাম্মদপুরে দুর্বল না। তবে অপরাধীরা একটা সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে আমরাও আভিযানিক টেকনিক পরিবর্তন করছি। যাতে অপরাধীরা সুবিধা করতে না পারে।
মোহাম্মদপুরে অপরাধীরা রাজনৈতিক সেল্টার পাচ্ছে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের সুযোগ কম। কারণ নতুন সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
টিটি/এমআইএইচএস/বিএ