দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে

ছোটবেলা থেকেই দুই ভাই স্বপ্ন দেখতেন একসাথে চলবেন, জীবনসঙ্গীও হবে যমজ দুই বোন। সেই স্বপ্নের পালে হাওয়া দিলো সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম। আর তাতেই মিলে গেলো চার হাত। সুমাইয়া-সোনিয়া আর আব্দুর রাজ্জাক-আব্দুল জব্বারের এই অনন্য ও প্রেমের গল্প এখন সবার মুখে মুখে।

Advertisement

বুধবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে দেখতে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে দিনভর স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় করেন। যমজ ভাই-বোনের বিয়েতে খুশি বর-কনেসহ পরিবারের লোকজন।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়ার শফিকুল ইসলামের দুই যমজ মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পাতা ও সোনিয়া আক্তার লতার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলে আব্দুর রাজ্জাক আশেক ও আব্দুল জব্বার মাসুমের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বর রাজ্জাক ও জব্বার দুইজনেই দুবাই প্রবাসী। কনে পাতা ও লতা এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বুধবার সকালে একই ধরনের শেরওয়ানি পড়ে কনের বাড়িতে হাজির হন দুই ভাই। তাদের মতো একই রকমের শাড়ি পরেছিল দুই বোনও।

Advertisement

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনাড়ম্বর পরিবেশ তাদের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। যমজ ভাই বোনের বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যমজ নবদম্পতিদের এক নজর দেখতে বিয়ে বাড়িতে ভিড় জমায় বিভিন্ন এলাকার লোকজন।

স্থানীয়রা জানায়, এই রকম বিয়ে সচরাচর দেখা যায় না। তাই বিয়ে দেখতে অনেক লোক এসেছে। কেউ দাওয়াত পেয়ে আবার কেউ দাওয়াত না পেয়েও একনজর তাদের দেখতে এসেছে। তবে বিষয়টি খুবই ভালো লেগেছে। এই দুই নবদম্পতি যেন সুখী হয়, এজন্য দোয়াও চেয়ছেন তারা।

জমজ দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা দুই ভাই লেখাপড়া শেষ করে প্রবাসে থাকি। ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি। তাই আমরা দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেই যে, কোনো জমজ দুই বোনকে বিয়ে করবো। তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ মেসেঞ্জারে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুই জমজ বোনের সন্ধান পাই। আলহামদুলিল্লাহ, তারা আমাদের বিয়ে করতে সম্মতি দিয়েছে। আমরা দুই যমজ ভাই দুই যমজ বোনকে বিয়ে করতে পেরে খুবই আনন্দিত।

যমজ দুই বোন লতা ও পাতা বলেন, এ বিয়ের মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব। এজন্য খুশি তারা। দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে।

Advertisement

যমজ দুই মেয়ের চাচা রফিকুল ইসলাম মনি বলেন, যমজ দুই ভাতিজির জন্য যমজ দুই ছেলের সন্ধান পাওয়া সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকার এক শিক্ষকের মাধ্যমে। ভাতিজি দুইজনই এইচএসসি পরীক্ষা দেবে এবং ছেলেরাও দুইজন লেখাপড়া শেষ করে প্রবাসে চাকরি করছে। আল্লাহ তাদের জুটি মিলিয়ে দিয়েছে। তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। যেন তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।

এ ব্যাপারে যমজ দুই ছেলের বাবা নুরুল আলম বলেন, যমজ দুই ছেলের জন্য যমজ দুই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে পেয়ে অনেক আনন্দিত। নবদম্পতিদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এমআরএম