২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নারী উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)।
Advertisement
একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংকঋণে পৃথক কোটা, সহজ জামানত নীতি, কর-জটিলতা হ্রাস এবং সরকারি ক্রয়ে অগ্রাধিকারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর পান্থপথে ওয়েব কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেট একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
নাসরিন ফাতেমা আউয়াল বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের একটি নির্দিষ্ট অংশ যদি নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা এবং নতুন ব্যবসা উদ্যোগের জন্য সহজ শর্তে বরাদ্দ করা হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান আরও বাড়বে।
ওয়েব সভাপতি বলেন, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন বরাদ্দ ও নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন ১৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার, কোথায় কততিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়, বরং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়েব।
Advertisement
• নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও এসএমই অর্থায়নে পৃথক কোটা এবং সহজ জামানত নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
• জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার সংযোগ, ই-কমার্স সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ।
• প্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, রপ্তানি সক্ষমতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ।
• সরকারি ক্রয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ সুবিধা ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
• ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের কর-সংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়েবের সহ-সভাপতি-১ তাজিমা এইচ মজুমদার, সহ-সভাপতি-২ মেহেরুন্নেসা খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস ও ফারহানা শারমিনসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইএআর/ইএ