ক্যাম্পাস

ইবি অধ্যাপকের গবেষণা: ‘মাঙ্কিপক্স শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় Q1 জার্নাল Networks এর Best Paper Award গ্রহণের জন্য নেদারল্যান্ডস যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কম্পিউটার ভিশন ল্যাবের পরিচালক ড. মো. শামীম হোসেন৷ আগামী ২১-২৬ জুন দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য IEEE World Congress on Computational Intelligence (WCCI 2026) অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন।

Advertisement

জানা যায়, এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি গবেষকদের একটি গবেষণাপত্র। গবেষণাপত্রটি যৌথভাবে সম্পন্ন করেন ইবির ড. মো. শামীম হোসেন এবং দী সাংকিউংকওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম বায়োফিজিক্স ইনস্টিটিউটের পিএইচডি গবেষক দীপঙ্কর বালা। ইবির কম্পিউটার ভিশন ল্যাব এবং চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার (USTC) কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এর তত্ত্বাবধান করেন USTC-এর অধ্যাপক ঝাংজিন হুয়াং।

গবেষণাটির মূল বিষয় ছিল মাঙ্কিপক্স (Mpox) রোগ শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। গবেষণাটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে Neural Networks জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্প্রদায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ক্ষেত্রটির অন্যতম বহুল উদ্‌ধৃত (Highly Cited) গবেষণাপত্রে পরিণত হয় এবং মাঙ্কিপক্স শনাক্তকরণ ও মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম কোনো গবেষকদল এবার Q1 জার্নাল কর্তৃক এ ধরনের পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে ড. শামীম হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের Q1 জার্নাল Neural Networks-এর এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের গবেষণা অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গবেষণায় দেশের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তরুণ গবেষকদের বৈশ্বিক গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, Neural Networks Best Paper Award প্রতি বছর জার্নালটিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্য থেকে মাত্র একটি প্রবন্ধকে প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের জন্য কোনো গবেষক নিজে মনোনয়ন দিতে পারেন না। আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মনোনয়নের ভিত্তিতে গবেষণাপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হয়। মনোনয়নের সময় গবেষণার বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ, মৌলিকত্ব, গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে হয়। পরবর্তীতে সম্পাদকীয় বোর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়কদের কঠোর পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

ইরফান উল্লাহ/এফএ/এএসএম