বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার নবনিযুক্ত প্রধান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে পরিচয়পত্র পেশ করেন পার্টনার্স ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জোসেফ আকিনকুগবে অ্যাডেলেগান, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কোকো এইচ. উশিয়ামা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে।
Advertisement
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের স্বাগত জানিয়ে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা-সংক্রান্ত অভিন্ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি তাদের নতুন দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।
নবনিযুক্ত তিন প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। তারা নিজ নিজ সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জোসেফ আকিনকুগবে অ্যাডেলেগানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে পিপিডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। টেকসই উন্নয়ন ও জনসংখ্যা-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংস্থাটি আরও কার্যকর অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Advertisement
ডব্লিউএফপির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কোকো এইচ. উশিয়ামার সঙ্গে বৈঠকে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং মানবিক সহায়তা খাতে ডব্লিউএফপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ডব্লিউএফপির অব্যাহত সহায়তারও প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আইওএমের চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডের সঙ্গে বৈঠকে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য জনসচেতনতা ও বাজারোপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন প্রক্রিয়াজুড়ে তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক অভিবাসন চুক্তি (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন) বাস্তবায়ন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং সংকটাপন্ন বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় আইওএমের অবদানের প্রশংসা করেন।
Advertisement
ড. টম-বন্ডে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থার প্রসারে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এমইউ/কেএএ/