যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি মন্ত্রীদের আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে রক্ষা করা অধিকাংশ অস্ত্রের খরচই আসে মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে।
Advertisement
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য এই চুক্তির সমালোচনা করছেন। এমনকি তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করেছেন। অথচ এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল। আর তিনি হলেন বিশ্বের এক পরাশক্তির প্রধান।’
আরও পড়ুন ইসরায়েলকেও এই শান্তি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে: জেডি ভ্যান্সইসরায়েলি মন্ত্রীদের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে পুরো বিশ্বে আমার অবশিষ্ট থাকা একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে এভাবে আক্রমণ করতাম না। গত তিন মাসে আপনাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করা দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্রই আমেরিকার হাত দিয়ে তৈরি এবং এর পেছনে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হয়েছে।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন। ইসরায়েলের যারা মনে করছেন তাদের বড় সমস্যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তাদের আসলে ঘুম থেকে উঠে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা উচিত।’
ভ্যান্সের এই তিরস্কার মূলত ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সমালোচনার জবাব ছিল। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার এই দুই অতি-ডানপন্থি নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন লেবাননসহ সব ফ্রন্টের যুদ্ধ বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পএর আগে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের এই উদ্বেগ ও আতঙ্ককে ‘অদ্ভুত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার প্রতি অযৌক্তিক অবিশ্বাস থেকেই এই উদ্বেগের জন্ম হয়েছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
উগ্রপন্থি মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে ভ্যান্স সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবটা কী? আপনারা মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আপনারা আপনাদের জাতীয় নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন না।’
Advertisement
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৭ জুন) নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে তেহরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছে এবং বিনিময়ে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এই চুক্তিটি এখনই চূড়ান্ত নয়, বরং আগামী ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান খোঁজা হবে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল-জাজিরাকেএএ/