জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে আরও চার কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ সময়সীমা বৃদ্ধি করেন।
Advertisement
তদন্ত কমিটির প্রধান ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যে খুদে বার্তার ভিত্তিতে নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি করা হয়েছিল, সেটি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে এসেছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণেই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন ‘তুই আসামি, গাড়িতে ওঠ’- ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগনাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম বলেন, নাঈম এখন সিলেটে খেলায় ব্যস্ত রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুদে বার্তার উৎস শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
Advertisement
গত ১২ জুন রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন নাঈম হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, নগরের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার অটোরিকশা থামিয়ে চালকের কাগজপত্র জব্দ করে। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স সোহেল মারধর করেন।
আরও পড়ুন ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর করে থানায় নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সোর্স গ্রেফতারনাঈমের অভিযোগ, তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান।
ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের তথ্যদাতা সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও চার কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
এমআরএএইচ/কেএসআর