আন্তর্জাতিক

আর.জি.কর কাণ্ডে মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা জড়িত: ভুক্তভোগীর মা

কলকাতার আর.জি.কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা জড়িত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর মা রত্না দেবনাথ।

Advertisement

বিজেপি থেকে নির্বাচিত পানিহাটির এই বিধায়ক বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, আমার মেয়ে ১২ থেকে ৬টার মধ্যে মারা গেছে। মানে তাকে খুন করা হয়েছে। তাহলে রাত ১২টা থেকে ৬টা অবধি কে কে তার সাথে ছিলেন? চারজন যারা ছিলেন, তারাও বলেছিলেন খেতে খেতে রাত ১টা বেজে গিয়েছিল। তাদের কেন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ হবে না?

‘সিবিআই বলছে, তারা ডাক্তার। আমার মেয়েও তো একজন ডাক্তার, ভুক্তভোগী যে ছিল সেও একজন ডাক্তার। বরং তাদের থেকে সিনিয়র। মাত্র দুজনকে ডাকা হয়েছিল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য।’

একজন শিক্ষানবিশকে বলতে শোনা গিয়েছিল, যে ভাই আমাদের শিক্ষানবিশ জড়িত এই কেসটার মধ্যে। তার গলার কণ্ঠস্বর শুনে আমি তাকে চিহ্নিত করে তার নাম দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সরকার বদলেছে, নতুন তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। সত্য সামনে উঠে আসবেই। শুধু আমার মেয়ের বিচার নয়, প্রত্যেকটা মেয়ে বিচার পাবে।

Advertisement

এরপরই রত্না দেবনাথের বিস্ফোরক অভিযোগ। বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাই কার্তিক ব্যানার্জীর ছেলে আবেশ ব্যানার্জীর ফোনের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গেছে ওখানে। তিনি ওই রাতে ওখানেই ছিল। তদন্ত করতে হলে তাদেরকেও ডাকতে হবে।

সেদিন রাতে কী ঘটেছিল বলে আপনার মনে হয়- প্রশ্নের জবাবে এই বিধায়ক বলেন, সে রাতে ১১টা ১৫ মিনিটে আমার মেয়ে আমাকে ফোন করে বলেছিল, মা খাবার এসে গেছে। আমি বললাম, কী খাবি? তখন সে অনেক খাবারের নাম বললো। আমি তাকে বলেছিলাম, ভাত খেয়ে নে, সারাদিন তো ভাত খাওয়া হয়নি। এই হলো আমার মেয়ের সাথে শেষ কথা।

রত্না দেবনাথের ভাষ্য, ওই রাতে আমার মেয়ের ডিউটি ছিল না, ছিল একটি ছেলের। ওই ছেলে বলেছিল, আজকের নাইট ডিউটিটা তুই করে দে, এ মাসে তোকে আর নাইট করতে হবে না। সেখানে চারটি পার্টি চলছিল,সেই পার্টিতে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের অনেকেই আর.জি.করের নন। তারা বহিরাগত, অর্থাৎ অন্য জায়গা থেকে এসেছিল।

পার্টিতে কার্তিক ব্যানার্জীর ছেলে আবেশ ব্যানার্জীও এসেছিলেন। কারণ ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে তাকে ওখানে পাওয়া গেছে। রত্না দেবনাথের দাবি, সন্দীপ ঘোষের ঘরে ভোর ৪টার সময় আমার মেয়ের ল্যাপটপ ও মোবাইলের সব নথি সব মুছে ফেলা হয়েছিল। ভোর ৪টায় সন্দীপ ঘোষের ঘরটি খোলা হয়েছিল, সেই তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। ওই সেমিনার রুমের পাশে আবেশ ব্যানার্জী যে ছিলেন, তা জানা গেছে। সবটাই সিবিআইকে জানানো হয়েছে।

Advertisement

এই মায়ের দাবি, ঘটনার পর থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত, গোটা প্রক্রিয়াতেই ছিল অসংখ্য অসঙ্গতি, যা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখা উচিত। হাসপাতাল থেকে মেয়ের দেহ দেখতে না পেয়ে তিনি ও তার স্বামী থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাখা হয়। সেসময় তাদের মেয়ের দেহ বাড়ির সামনে বেওয়ারিশের মতো পড়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর.জি. কর কাণ্ডের তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) দিয়ে নতুন করে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তা- এই তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই তৎপর হয় সিবিআই।

ডিডি/এসএএইচ