আন্তর্জাতিক

চীনা J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের নির্মিত ২০টি J-10CE মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হবে।

Advertisement

এ যুদ্ধবিমান কেনার খবর দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে বলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের এই প্যাকেজে যুদ্ধবিমান, লজিস্টিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব যুদ্ধবিমান ২০২৬–২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হতে পারে।

চীনা J-10C যুদ্ধবিমান

জানা গেছে, Chengdu J-10C একটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এ যুদ্ধবিমানগুলো আধুনিক AESA রাডার (ইলেকট্রনিক সিগন্যালের মাধ্যমে দ্রুত দিক পরিবর্তন করে লক্ষ্য শনাক্ত করে), নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক কমব্যাট সিস্টেম এবং দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিমান আধুনিক আকাশযুদ্ধে তুলনামূলকভাবে উন্নত ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারতসহ পুরো অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা

এই চুক্তির ফলে ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। এই সম্ভাব্য চুক্তিকে চীনের বৃহত্তর কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছে ভারত। মূলত সংবেদনশীল সিলিগুড়ি করিডোর (চিকেন’স নেক) নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভারত। ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডোর দিয়ে মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর) রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ভারত।

আরও পড়ুন>>পাকিস্তান-চীন মোকাবিলায় ফ্রান্সের ১১৪ রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

এদিকে, এই করিডোরটি ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের উত্তরের দিকের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থান করছে। তাই এই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যের যেকোনো পরিবর্তন কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অন্তর্বর্তীকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। চীনা এ আধুনিক যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্ত হলে আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কা করছেন ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে চীনের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো বিনিয়োগ মিলিয়ে একটি বৃহত্তর কৌশলগত প্রভাব বলয় তৈরি হচ্ছে। এ পদক্ষেপ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (BRI) অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে, চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান কেনাকে সম্ভবত শুধু একটি সাধারণ সার্বভৌম প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখবে না ভারত।

কেএম