আমেরিকা, কানাডা আর মেক্সিকোয় চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের ডামাডোলে ক্রিকেটে মাঠে দর্শক হবে কি না এ নিয়ে ছিল নানা আলোচনা। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ কোনো সন্দেহ রাখেননি, প্রথম টি-টোয়েন্টি তো বটেই দ্বিতীয় ম্যাচেও দর্শকদের স্রোত বয়ে গেছে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
Advertisement
এমন দর্শক ঠাসা গ্যালারির সামনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুযোগ হাতছাড়া করলো টাইগাররা। অথচ শুরু, মিডল ওভার সবখানেই দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এক পর্যায়ে তো মনে হচ্ছিল স্বাগতিকদের জয় সময়ের ব্যাপার। সেখান থেকেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরেই গেলো টাইগাররা। যদিও শেষ ৭ বলে ২৯ রানের সমীকরণ মেলানোর পথে হৃদয় একাই হাঁকান ৩ ছক্কা ও ১ চার। তবে শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দেয়নি।
শুক্রবার চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ১৯৬ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এই হারে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া।
রান তাড়ায় তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান উড়ন্ত শুরু এনে দেন বাংলাদেশকে। প্রথম ওভারে ২টি বাউন্ডারি হাঁকান তানজিদ তামিম। দ্বিতীয় ওভারে আসে ২ ছক্কা ও ১ চার। ওভারের দ্বিতীয় বলে তামিম ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন সাইফ হাসান। প্রথম ২ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩৩ রান।
Advertisement
তৃতীয় ওভারের পর চতুর্থ ওভারে বাউন্ডারি মারার পর বোলার ম্যাট রেনশকে উইকেট ছুড়ে দেন তামিম। স্ট্যাম্প বরাবর স্লোয়ার ডেলিভারিটি শক্ত হাতে খেলতে গিয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। এর আগে ১৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন তামিম।
এরপর পঞ্চম ওভারে আসে ১৭ রান। ওভারের প্রথম বলেই স্পেন্সার জনসনকে ছক্কা হাঁকান সাইফ। শেষ ৩ বলের ২টাতেই চার মারেন সৌম্য সরকার। ৬ষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে আরও এক চার আসে সৌম্যের ব্যাট থেকে। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান।
সপ্তম ওভারে ৭৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। অ্যাডাম জাম্পাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার। এর আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ২ চারে ১৫ রান।
অষ্টম ওভারে ৪ রান আসার পর ৯ম ওভারে জাম্পাকে টানা দুই ছক্কা মেরে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান পারভেজ হোসেন ইমন। ৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের দলীয় স্কোর ১০০ পার হয়। আর ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান। পরের ওভারে সাইফ চার মারার পর ছক্কা মারেন ইমন।
Advertisement
সাইফ আর ইমনের জুটিতে ২৬ মিনিট আর ৩৩ বলে পূর্ণ হয় পঞ্চাশ রানের জুটি। যেখানে ৩৫ রানের অবদান ইমনের। এরপরই টানা দুই ওভারে ফিরে যান পারভেজ ইমন এবং সাইফ হাসান। এ দুজনের বিদায়ে আচমকা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে অ্যারন হার্ডির স্লোয়ার কাটার কাভারের উপর দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন ইমন, টাইমিংয়ে গড়বড় হয়ে বল উঠে যায় উঁচুতে। কাভার থেকে পিছনে সরে গিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মিচেল মার্শ। এর আগে ইমনের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রান। ২ বল পরই অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে মারতে গিয়ে একইভাবে আউট হন সাইফ, তার ক্যাচও নেন মার্শ। ৩৩ বলে ৪২ রান করেন সাইফ।
৪ রানের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যাটারকে হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৩। ৫ ওভারে ৫৪ রানের সমীকরণ মেলানোর পথে ১৬তম ওভারে ১০ রান তুললেও পরের ওভারে শামীম পাটোয়ারীকে হারায় স্বাগতিকরা। পরের ওভারেও আসে মাত্র ৮ রান। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩৪ রান। ১৯তম ওভারে ১১ রান আসে, শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রানের। সেখানে হৃদয় ২ ছক্কা আর ১ চার মারলেও সেটা শুধু ব্যবধান কমিয়েছে। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩৫ রান করেন হৃদয়।
এর আগে শুরুটা দুর্দান্ত করে অস্ট্রেলিয়া। যার ফলে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করে তারা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নাসুম আহমেদের করা প্রথম ওভার থেকে তুলে নেয় ১০ রান। পরের ওভার করতে আব্দুল গাফফার সাকলায়েন খরচ করেন ১৫ রান। প্রথম ২ ওভারে ২৭ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া এরপর টানা দুই ওভারে হারায় ২ উইকেট।
দ্রুত জস ইংলিশ, মিচেল মার্শ ও কুপার কনোলির উইকেট হারালেও ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড মিলে অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনেন। এ দু’জনের ৯৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার বিশাল স্কোর গড়তে সহায়তা করে। ৫২ বলে ৮৯ রান করেন ম্যাট রেনশ। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৫টি ছক্কার মার মারেন তিনি। টিম ডেভিড ২৬ বলে করেন ৪৫ রান।
এসকেডি/আইএইচএস/