কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Advertisement
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তারা খালি হাতেই ফিরে যায়।
এসময় অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে আনোয়ার আলীর সমর্থকরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। আনোয়ার আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র।
Advertisement
এদিকে সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে অভিযানকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর অভির বিরুদ্ধে।
নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি পোস্ট দিয়ে আনোয়ার আলীর বাড়িতে লোকসমাগমের আহ্বান জানান এবং বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে পোস্টটি সংশোধন করে কুতুব শব্দটি তুলে দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনুর বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযান শেষে বাড়ি থেকে কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি।
Advertisement
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি মীর সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া-ঢাকা মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়। কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা আনোয়ার আলী ও তার ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনুর অনুগত। এর আগে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে তাদের দু’জনের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন মাহবুবউল আলম হানিফের সঙ্গে আনোয়ার আলীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে ছিল। সাবেক মেয়র পুত্র পারভেজ আনোয়ার তনুর দলীয় কোনো পদ না থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তনুকে ঢাকা থেকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় বর্তমানে তনু জামিনে আছেন।
তারা আরও বলেন, সম্প্রতি সাবেক মেয়র আনোয়ার আলী ও তার ছেলের অনুগতদের দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আনোয়ার আলীর দুই ভাতিজাকে। এছাড়া যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়েছে আনোয়ার আলী ও জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুগতদের। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হানিফ সমর্থিতদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দৃশ্যমাণ হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবে বাড়ির ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।
আল-মামুন সাগর/এফএ/এএসএম