দেশজুড়ে

যে জাতি মেধাকে সম্মান দেয় না, সে জাতি এগোয় না: ভূমিমন্ত্রী

ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, যে জাতি ও সমাজ তার মেধাবীদের যথাযথ সম্মান দিতে পারে না, সেই জাতি কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। পারে না তার লক্ষ্য অর্জন করতেও।

Advertisement

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ড. কায়সার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সমাজ উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন,। আজকের এ সংবর্ধনা শুধু শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার আয়োজন নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির একটি অনন্য উদ্যোগ।

তিনি বলেন, অতীতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন পর্যায়ের মেধাবীদের পুরস্কৃত করা হতো। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই স্বীকৃতি পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করত এবং তা তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা জোগাত।

Advertisement

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ছোট্ট একটি মেডেল বা সম্মাননাও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মেধাবীদের উৎসাহিত করলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাস, সাহস, অধ্যবসায় ও সঠিক শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী ড. এ.পি.জে. আবদুল কালামের জীবনসংগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্য থেকেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বমানের ব্যক্তিত্ব হওয়া সম্ভব।

ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি আজকের মেধাবীদের চোখে আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছি। তোমরাই একদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। দেশের সীমানা পেরিয়ে যখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যাবে, তখন তোমরাই বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচিত হবে।

রাজশাহীর অতীত গৌরবের স্মৃতিচারণ করে মিনু বলেন, একসময় পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মানবিক নগরী হিসেবে রাজশাহী আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছিল। শহরের সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সে সময় দেশের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ ছিল।

Advertisement

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। প্রধান আলোচক ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’র প্রধান সম্পাদক ও বি.পরিক্রমা নিউজবিডি ডটকমের প্রকাশক-সম্পাদক হারুন অর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ছায়েদুর রহমান, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. হাসেন আলী।

আলোচনা সভা শেষে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়।

মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/এমএস