ভারতের উত্তর প্রদেশের জঙ্গল থেকে প্রায় এক দশক আগে উদ্ধার হওয়া এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে পুনর্বাসনের প্রতীক হয়ে ওঠা সেই ‘মোগলি কন্যা’ আর নেই। লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ১৮ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে।
Advertisement
২০১৭ সালে রাজ্যের বাহরাইচের কাতারনিয়াঘাট জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরীর নাম রাখা হয়েছিল ‘এহসাস’। ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণের জটিলতা থেকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গত ১৫ জুন লখনউয়ের ড. রাম মনোহর লোহিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে এহসাস। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুসফুসের রোগ থেকে তৈরি হওয়া সেপ্টিসেমিয়া বা রক্তে মারাত্মক সংক্রমণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। লখনউয়ের এসিপি (গাজীপুর) অনিন্দ্য বিক্রম সিং এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন হৃদরোগ-স্ট্রোক সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা দেয় লিঙ্গ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাহরাইচের কাতারনিয়াঘাট বনাঞ্চলের মোতিপুর রেঞ্জের একটি রাস্তার ধারে প্রথম সন্ধান মেলে এহসাসের। সে সময় তার আচরণ ছিল পুরোপুরি বন্য। মানুষের সমাজ বা সভ্যতার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। দুই হাত ও দুই পায়ে ভর দিয়ে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো হাঁটা, পোশাক পরতে অনীহা এবং মানুষের উপস্থিতি দেখলে আক্রমণাত্মক আচরণ করার কারণে রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর বিখ্যাত চরিত্র মোগলির সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বজুড়ে তাকে ‘মোগলি কন্যা’ নামে অভিহিত করা হয়।
Advertisement
উদ্ধারের পর বাহরাইচ শিশু কল্যাণ কমিটি প্রথমে তার নাম রেখেছিল ‘পূজা’। পরবর্তীতে তাকে লখনউয়ের মোহন রোডের নির্বান সরকারি বিশেষায়িত শিশু নিবাসে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তার নতুন নাম দেওয়া হয় ‘এহসাস’। চিকিৎসায় দেখা যায়, তার মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হয়নি এবং সে মানসিক প্রতিবন্ধকতা ও মৃগীরোগে ভুগছিল। তবে দীর্ঘ বছরের বিশেষ যত্ন, থেরাপি এবং পুনর্বাসনের ফলে এহসাস অবিশ্বাস্য উন্নতি করতে শুরু করেছিল। সে ধীরে ধীরে পোশাক পরা, যত্নকারীদের চেনা এবং সামাজিক জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছিল।
শিশু নিবাসে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর কেয়ারটেকার রানির সঙ্গে গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এহসাসের। শোকগ্রস্ত রানি জানান, এহসাস তাকে ভালোবেসে ‘আম্মা’ বলে ডাকত। অশ্রুসিক্ত চোখে রানি বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম সে একদিন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে, কিন্তু এখন শুধু তার স্মৃতিগুলোই আমাদের মাঝে রয়ে গেল।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/
Advertisement