ধর্ম

বাবার পরকালীন শান্তির জন্য শ্রেষ্ঠ ২টি দোয়া

বাবার পরকালীন শান্তির জন্য হাদিসে বর্ণিত এ দু’টি দোয়া পড়ুন:

Advertisement

১.

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِاَبِي وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ ‏.‏ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লিআবী ওয়ারফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিয়্যিন, ওয়াখলুফহু ফি আকিবিহি ফিল গাবিরিন, ওয়াগফির লানা ওয়া লাহু ইয়া রাব্বাল আলামিন।

Advertisement

অর্থ: হে আল্লাহ আমার বাবাকে ক্ষমা করুন এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা উঁচু করে দিন। আপনি তার বংশধরদের অভিভাবক হয়ে যান। হে রাব্বুল আলামিন তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। তার কবরকে প্রশস্ত করুন এবং তা আলোকজ্জ্বল করে দিন। (সহিহ মুসলিম)

২. 

اللَّهُمَّ إنَّ اَبِي في ذِمَّتِكَ وحَبلِ جِوارِكَ، فَقِهِ من فِتْنةِ القَبرِ، ومن عذابِ النارِ، فأنتَ أهلُ الوَفاءِ والحقِّ، فاغفِرْ له وارحَمْه، إنَّكَ أنتَ الغَفورُ الرحيمُ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না আবী ফী জিম্মাতিকা ওয়া হাবলি জিওয়ারিকা, ফাকিহি মিন ফিতনাতিল কাবরি ওয়া মিন আজাবিন নার; ফাআন্তা আহলুল ওয়াফায়ি ওয়াল হাক্কি, ফাগফিরলাহু ওয়ারহামহু, ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম।

Advertisement

অর্থ: আমার বাবা আপনার যিম্মায় ও আপনার প্রতিবেশী। আপনি তাকে কবরের বিপদ ও দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি তো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন। আপনিই একমাত্র ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সুনানে আবু দাউদ)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তআলা বলেন, বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন’। (সুরা ইসরা: ২৪)

বাবা-মায়ের জীবনকালে যেমন তাদের সুস্থতা ও নেক হায়াতের জন্য দোয়া করতে হবে, মৃত্যুর পরও তাদের ক্ষমা, আখেরাতের মুক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে।

সন্তানের দোয়া যে বাবা-মায়ের কাজে লাগে, তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় তা আল্লাহর রাসুলের (সা.) হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি। রাসুল (সা.) বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে বলবে আমার এত মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম? তাকে বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফারের কারণে তুমি এত মর্যাদা পেয়েছ। (সুনানে ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমদ)

আরেকটি বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেন, আদম সন্তান যখন মারা যায়, তখন তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়; ১. সদকায়ে জারিয়া (ফায়েদা অব্যাহত থাকে এ রকম সদকা যেমন মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করে দেওয়া ইত্যাদি) ২. ইলম বা জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে ৩. নেক সন্তান যে তার জন্য নেক দোয়া করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম)

ওএফএফ