অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন, কমেছে লেনদেন   

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ঢালাও দরপতন হয়েছে। ফলে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অবশ্য ঢালাও দরপতনের মধ্যেও বড় মূলধনের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে বাছাই করা সূচক।

Advertisement

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

রোববার (২১ জুন) ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের শেষদিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী বিক্রির চাপ বাড়ায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। এতে বড় হয় দাম কমার তালিকা।

আরও পড়ুন বুধবার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেনের সময় বাড়ছে ৫ মিনিট

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯৮টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Advertisement

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৩টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৭টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

Advertisement

আরও পড়ুন শেয়ারবাজারের ৪২ কোম্পানির অস্তিত্ব ঝুঁকিতে

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫০ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার। ৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, এনসিসি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম এবং কেবিএস অ্যাক্সেসরিজ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৬টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এমএএস/ইএ