নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতের এমপি আবদুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করার বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে স্পিকার এ ঘোষণা দেন।
দিনের অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন।
তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেছেন, যা সম্পূর্ণ অসত্য। উনার পিতা এখনো জীবিত আছেন। এ অসত্য বিবৃতিটি ইতোমধ্যেই সংসদীয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। আমি এটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সদস্য (আবদুল মুনতাকিম) সেদিনই আমার চেম্বারে এসে জানিয়েছেন যে, ভুলবশত তার মুখ থেকে এটি বেরিয়ে এসেছে। উনার পিতা জীবিত আছেন এবং তিনি নিজেও তার ভুল স্বীকার করেছেন। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’। সুতরাং, এটিকে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।
গত ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের এমপি আবদুল মুনতাকিম দাবি করেন, একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।
সেদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাইযোদ্ধা।’
তবে ৪৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্যের নিজের বাবাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদ’ দাবি করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরস তৈরি হয়।
নির্বাচনি হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আবদুল মুনতাকিমের বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া কীভাবে সম্ভব, এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ দেশজুড়ে সমালোচনাও হয়।
এমওএস/এমকেআর
Advertisement