দেশীয় টায়ার শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে মোটরসাইকেল টায়ারে সমতুল্য আমদানি সুরক্ষা, কৃষি টায়ারে আরও শুল্ক বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টায়ার-টিউব ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)।
Advertisement
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা টায়ারের সিইও এবং সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফল বারি, আরএফএল গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার এবং সংগঠনটির সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম, রূপসা টায়ারের প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরাজ রহমান, আকিজ ভেঞ্চারের জিএম অবসরপ্রাপ্ত মেজর আরিফুর, এপেক্স হোসেন টায়ারের প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির সদস্য পারভেজ তুহিন, যমুনা টায়ারের জিএম সোহেল রহমান, মেঘনা টায়ারের জিএম মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
আরও পড়ুন বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগসংবাদ সম্মেলনে বিটিএমইএ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লাইট ট্রাক টায়ারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, কৃষি টায়ার আমদানিতে ভ্যাট আরোপ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন সংশ্লিষ্ট শিল্পে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন নীতি-সহায়তার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় টায়ার শিল্পের জন্য এসব উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
Advertisement
বিটিএমইএ জানায়, আগে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি টায়ারের ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য হলেও আমদানিকৃত কৃষি টায়ারে একই ধরনের কর না থাকায় স্থানীয় শিল্প বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। নতুন বাজেটে সেই বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে শিল্পের বিকাশে আরও সুরক্ষা প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, দেশে মোটরসাইকেল টায়ার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাজার এখনো আমদানিনির্ভর। পর্যাপ্ত শুল্ক সুরক্ষা এবং স্থানীয় মোটরসাইকেল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য দেশীয় টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারবে।
টায়ার আমদানিকারকদের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও জবাব দেয় বিটিএমইএ। তাদের দাবি, লাইট ট্রাক টায়ারে সম্পূরক শুল্ক আরোপে পরিবহন ব্যয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। বরং দেশীয় উৎপাদন বাড়লে প্রতিযোগিতার কারণে দাম কমার সম্ভাবনাই বেশি। একই সঙ্গে অবৈধ আমদানি বা সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কাকেও তারা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে।
সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, রাবার অ্যাক্সিলারেটর, আয়রন ওয়্যার (স্টিল কর্ড) এবং এমএস নিপলের মতো টায়ার উৎপাদনের অপরিহার্য কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এসব প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
Advertisement
এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে এসআরও সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তিন ও চার চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানায় বিটিএমইএ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, দেশের টায়ার শিল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হচ্ছে এবং সরকারের ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা পেলে বাংলাদেশ শিগগির টায়ার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
ইএআর/এসএনআর