আন্তর্জাতিক

ব্রা খুলে-অন্তর্বাসে হাত ঢুকিয়ে তল্লাশি! ভারতে ছাত্রীদের সঙ্গে বর্বরতা

ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘নিট’সহ (NEET) বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা তল্লাশির নামে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার অজুহাতে ছাত্রীদের অন্তর্বাস (ব্রা) ও স্যানিটারি প্যাড পরীক্ষা করার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত হৃষিকা পাল নামে এক নারী পরীক্ষার্থীর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মালদা বিভূতিভূষণ হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে গেলে নিরাপত্তা চৌকিতে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি ঋতুস্রাবের (পিরিয়ড) মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না। ‘হ্যাঁ’ উত্তর দেওয়ার পর সেখানে দায়িত্বরত এক নারী কর্মী তাকে প্যান্ট নামাতে বলেন, যাতে তার স্যানিটারি প্যাডটি পরীক্ষা করা যায়।

আরও পড়ুন পরীক্ষা ভারতে, কেন্দ্র আমিরাত: পরীক্ষার্থীর মাথায় হাত!

হৃষিকা লেখেন, ‘আমি স্তব্ধ, লজ্জিত ও অসহায় বোধ করছিলাম। কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পাইনি, কারণ অন্য সব পরীক্ষার্থীর মতো আমারও ভয় ছিল যে কথা না শুনলে হয়তো আমাকে পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’

চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ ড. নচিকেত ভাটিয়া এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সামনে আনেন। পরে হৃষিকার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর দেখা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত ছাত্রী নিট, সিইউইটি (CUET), এসএসসি (SSC) পরীক্ষার হলে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একই ধরনের শকিং অভিজ্ঞতার কথা মন্তব্য করে জানাতে শুরু করেন।

Advertisement

কলকাতার বেলেঘাটা শান্তি সংঘ গার্লস স্কুলের এক পরীক্ষার্থী জানান, অস্বস্তি প্রকাশ করার পরেও তাকে প্যান্ট নামাতে বাধ্য করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন পরীক্ষা ২টায়, ১টা ৩০-এ এসেও কেন্দ্রে ঢুকতে পারলেন না শিক্ষার্থী!

আরেকজন অভিযোগ করেন, নারী কর্মীরা তল্লাশির নামে অন্তর্বাসের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে স্পর্শ করেন। অনেককে তাদের অন্তর্বাসে মেটালের হুক থাকার কারণে তা খুলে বাইরে রেখে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি তল্লাশির নামে স্তন চেপে ধরার মতো শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ঋতুস্রাব নিয়ে অবমাননার শিকার হওয়া আরেক ছাত্রী জানান, তার সত্যিই ঋতুস্রাব হয়েছে কি না, তা হাত দিয়ে স্পর্শ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। একজন পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার চেয়ে নিজের বুক ঢেকে রাখার চিন্তাই আমার মাথায় বেশি ঘুরছিল। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় কেউ কীভাবে এই মানসিক ট্রমার পর নিজের সেরাটা দেবে?’

আরও পড়ুন ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তুলকালাম

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের জোরপূর্বক শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া, অবাঞ্ছিত স্পর্শ এবং জনসমক্ষে হেনস্তা শিক্ষার্থীদের তীব্র মানসিক ট্রমার দিকে ঠেলে দেয়। ফলে হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়া, মনোযোগ হারানো, হাত-পা কাঁপা এবং স্মৃতিভ্রমের মতো সমস্যা তৈরি হয়। পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে মস্তিষ্ক যখন সমস্যা সমাধানের মোড থেকে বাঁচার লড়াইয়ের মোডে চলে যায়, তখন পরীক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাভাবিক পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Advertisement

তবে সব পরীক্ষা কেন্দ্রে এমনটা ঘটেনি। অনেক ছাত্রী জানিয়েছেন, তারা পিরিয়ডসের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত পেশাদার ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে তাদের সাধারণ তল্লাশি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আদালত বা সরকারি ভবনে যদি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে সফলভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে পরীক্ষার হলের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর এই চরম হেনস্তা কেন? নিরাপত্তা রক্ষার নামে মানবিক মর্যাদা ও শালীনতার সীমারেখা ঠিক কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়ে এখন সরব পুরো ভারত।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/