শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় দেশের সব স্কুলে জাঙ্ক ফুড বিক্রি ও পরিবেশন নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার থেকে নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
Advertisement
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুলে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার আর দেওয়া যাবে না। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন জনস্বাস্থ্য পরিদর্শকরা।
নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে হটডগ, বার্গার, পিজ্জা, ডোনাট, আইসক্রিম, বিস্কুট, ফ্লেভারযুক্ত দুধ, এনার্জি ড্রিংক, পেস্ট্রি, ভাজাপোড়া খাবার এবং টমেটো সসের মতো বিভিন্ন কন্ডিমেন্টও।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পুষ্টিজনিত সমস্যা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
Advertisement
যদিও শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই, তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, এসব রোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের ১২ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের ছিল এবং ৩ শতাংশ স্থূলতায় ভুগছিল।
নতুন নির্দেশনায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাত, তাজা ফল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম, প্রাকৃতিক ফলের রস, দুধ এবং অল্প চিনি দিয়ে তৈরি চা বা কফি পরিবেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির বিভিন্ন রেসিপিও সরবরাহ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদনকারী বা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্কুলের কোনো অনুষ্ঠান স্পন্সর করার অনুমতিও দেওয়া হবে না।
Advertisement
তবে এই উদ্যোগের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৭ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে খর্বাকৃতির শিকার।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও চলতি বছরে সেই হার কিছুটা কমে আসতে পারে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম