রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও লিটন হাসান লালু হত্যা মামলায় সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাবজিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
Advertisement
বর্তমানে অন্য একটি হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে থাকা এই আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ দুপুরে এ বিষয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শান্তুনু রহমান ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে মাবজিল হায়দার চৌধুরীকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
Advertisement
আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এজাহারভুক্ত ১ থেকে ৭ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে লিটন হাসান লালু গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা মাবজিল হায়দার চৌধুরী আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাদের সহায়তায় তিনি লিটন হাসান লালু হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
Advertisement
আবেদনে আরও বলা হয়, মাবজিল হায়দার চৌধুরী ডিএমপির নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাকে বর্তমান মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য, পরিকল্পনাকারী এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
এমডিএএ/ইএ