খেলাধুলা

যেভাবে ভিনিসিয়ুসকে বদলে দিয়েছেন আনচেলত্তি

এক সময় ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল- ক্লাবের সেই ভয়ংকর ভিনিকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় না; কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেই সমালোচনা যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচই নয় শুধু, এর আগে গত এক বছরের পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

Advertisement

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের হয়ে মাত্র ১৩ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অথচ এর আগে ব্রাজিলের অন্য সব কোচের অধীনে ৩৯ ম্যাচ খেলেও তার গোল ছিল মাত্র ৬টি। অর্থাৎ, আনচেলত্তির সঙ্গে কাজ করার পর জাতীয় দলেও যেন নতুন জীবন পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার।

ভিনিসিয়ুসের এই রূপান্তর অবশ্য হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে আছে কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে গড়ে ওঠা এক সফল সম্পর্ক। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আনচেলত্তির অধীনে খেলেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ভিনিসিয়ুস।

এই সময়ে তিনি দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি লা লিগা, একাধিক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করেছে। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জয়সূচক গোল এবং ২০২৪ সালের ফাইনালেও গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিয়েছেন ভিনি। এ কারণেই মূলত ২০২২ বিশ্বকাপের ভিনিসিয়ুসের সাথে এখনকার ভিনিসিয়ুসের অনেক পার্থক্য। তিনি এখন চার বছর আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

Advertisement

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিয়ুসকে চার বছর কোচিং করিয়েছেন আনচেলত্তি । ভিনি সম্পর্কে এই কোচ বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস বর্তমানে সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। সে কেমন পারফর্ম করতে পারে সেটা আমি জানতাম।’

আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব, ভিনিসিয়ুসকে স্বাধীনতা দেওয়া। রিয়ালে তিনি যেমন বাম প্রান্ত থেকে গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিংয়ের মিশেলে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতেন, ব্রাজিল দলেও এখন একই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তাকে। কোচের আস্থা যেন ভিনিসিয়ুসকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

এরই মধ্যে আনচেলত্তি যুগের প্রথম গোলটিও এসেছে ভিনিসিয়ুসের পা থেকে। ২০২৬ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তার গোলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল। গোলের পর টাচলাইনে ছুটে গিয়ে ভিনিসিয়ুসের আনচেলত্তিকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যটি ছিল দুজনের সম্পর্কের প্রতীকী ছবি।

চলতি বিশ্বকাপেও সেই ছন্দ ধরে রেখেছেন ভিনি। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল, এর আগে হাইতি ও মরক্কোর বিপক্ষেও ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে রাফিনহা, নেইমার, কুনহা এবং এনদ্রিকদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

Advertisement

এক সময় জাতীয় দলে নিজের ছায়া হয়ে থাকা ভিনিসিয়ুস এখন ব্রাজিলের আক্রমণের মুখ। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় নামটি সম্ভবত কার্লো আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদে যে জুটি ইউরোপ জয় করেছিল, সেই জুটিই এখন ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই প্রশ্ন একটাই- আনচেলত্তির ছোঁয়ায় জেগে ওঠা ভিনিসিয়ুস কি এবার ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের পথে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিতে পারবেন?

টিটিটি/আইএইচএস