যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাশিয়ার পাশে থাকবে বেলারুশ এবং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ঐক্য অটুট থাকবে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত নতুন মাত্রা নেওয়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এ কথা বলেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
Advertisement
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়েভ এর সঙ্গে এক বৈঠকে লুকাশেঙ্কো বলেন, যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন আমরা রাশিয়ার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকব।
এর জবাবে ভোরোবিয়েভ বলেন, আমরা এর জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
এরপর লুকাশেঙ্কো আরও বলেন, এর অন্য কোনো পথ নেই। পশ্চিমারা যদি আবার এখানে হস্তক্ষেপ শুরু করে তাহলে কী ঘটতে পারে তা আমরা ভালোভাবেই বুঝি।
Advertisement
২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে রাশিয়া। এতে দুই দেশেরই বহু সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে, সম্প্রতি পুতিন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। অ্যাংকোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে এই আলোচনা হতে হবে।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমনটা জানিয়েছেন বলে আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে।
গত বছর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার তিনটি দফা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বড় আকারের বন্দি বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য উভয় পক্ষের অবস্থান তুলে ধরে খসড়া স্মারক তৈরি হয়।
পরবর্তীতে মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাংকোরেজ শহরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক থেকে ২৮ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি হয়, যা পরে সংশোধন করে ২০ দফায় আনা হয়। তবে, ইউক্রেন নিজদের হারানো কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
Advertisement
মার্কিন মধ্যস্থতায় চলতি বছরের শুরুতেও মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের ২৩-২৪ জানুয়ারি, ৪-৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি এই তিন দফা আলোচনা হয়। প্রথম দুটি বৈঠক হয় আবুধাবিতে এবং তৃতীয়টি জেনেভায়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের পর সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
কেএম