খেলাধুলা

২০১৮ সালের আর্জেন্টিনা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চান ইকুয়েডরের কোচ

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলে এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয় বঞ্চিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সুর বাজতে চলেছে তাদের। কিন্তু ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এখনই হাল ছাড়তে চান না। তিনি ২০১৮ সালের আর্জেন্টিনা দল থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চান।

Advertisement

সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ অভিযানের সাথে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় আর্জেন্টিনার অভিযানের তুলনা করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি আমি জিততে না পারি, তবে আমাকে সরে দাঁড়াতে হবে।’

তাকে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যখন গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে জয় পাওয়াটা ছিল বাধ্যতামূলক। ঠিক যেমনটা এখন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের ক্ষেত্রেও।

তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতি।’ এরপর তিনি দর্শকদের সাথে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে আমার প্রতি এক ধরনের অনীহা বা প্রত্যাখ্যানের মনোভাব তৈরি হয়েছে।’

Advertisement

ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে স্বীকার করেছেন যে, যদি তিনি এই বৃহস্পতিবার জার্মানিকে হারাতে ব্যর্থ হন এবং তার দল ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়, তবে চুক্তি নবায়নের কোনো সুযোগ ছাড়াই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ আছে। আর যদি পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে, তবে আমাকে এমন একটি জায়গা ছেড়ে যেতে হবে যা আমি অত্যন্ত ভালোবাসি। তবে আমি জানি, যোগ্যতার বাইরেও শেষ পর্যন্ত ফলাফলের ওপরই সবকিছু নির্ভর করে।’

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই আর্জেন্টাইন কোচ জানান যে তিনি ‘পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী’ এবং জার্মানির বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির জন্য তিনি ‘শান্ত ও স্থির’ মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দলের খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসাও করে বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমাদের দলটি আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ হয়ে ওঠে। এটি অমূল্য। এটি আমাদের এক অসাধারণ মানবিক গুণ।’

এ প্রসঙ্গে কোচকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাথে কাটানো অভিজ্ঞতার তুলনা করতে বলা হয়েছিল। সেবার আগের দুটি ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ার পর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে জয় পাওয়াটা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল।

তিনি এর উত্তরে জোর দিয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কোনো মিল দেখছি না কারণ এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ঘটনা। যদিও ফলাফল এবং পরবর্তী পর্বে যাওয়ার জন্য জয়ের প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে মিল থাকতে পারে।’

Advertisement

এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন কেন আগের সেই আর্জেন্টিনা দলের চেয়ে বর্তমান দলের সাথে তিনি বেশি একাত্মতা অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাটানো এই দুই বছর, আমাদের জেতা ম্যাচগুলো, আমাদের প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতা ও একসাথে বসবাসের অভিজ্ঞতা সবই আমার কাছে অসাধারণ। আমি খুবই খুশি ও সন্তুষ্ট। অবশ্য কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ায় কিছুটা হতাশাও আছে, তবে বিশ্বমানের একটি দলের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও আমরা সফল হবো এই বিশ্বাস আমার আছে। ২০১৪ সালে চিলির হয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপে এবং ২০১৮ সালে রাশিয়ার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে আজকের এই স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।’

আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলের হার এবং কুরাসাওয়ের সাথে ০-০ ড্র। গ্রুপ ‘ই’-তে এই দুটি ফলাফল তাদের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার পথ কঠিন করে তুলেছে। পরের রাউন্ডে যেতে হলে তাই শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জিততেই হবে তাদের।

আরআর/আইএন