সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার পর এখন জাপানের সামনে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। তবে জাপানের প্রধান কোচ মনে করেন, ম্যাচটি হবে পুরোপুরি সমানে-সমান লড়াই। তার মতে, গত বছরের অক্টোবরের ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানোর অভিজ্ঞতাই তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
Advertisement
সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিকে আমি ৫০-৫০ বলব। শেষবার আমরা ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং সেখানে আমরা দেখিয়েছি যে আমাদেরও গুণগত মান আছে, আমরা এমন একটি দল যারা জয়ের সম্ভাবনা রাখে। আমরা ব্রাজিলকে অনেক সম্মান করি এবং জানি তারা কী করতে পারে। তবে এটাও পরিষ্কার যে আমাদেরও জয়ের সুযোগ রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক মরিয়াসুকে জিজ্ঞেস করেন, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোনটি? কিছুক্ষণ ভেবে তিনি প্রথমে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার নাম নেন, তবে একই সঙ্গে ব্রাজিলেরও প্রশংসা করেন।
‘সত্যি বলতে নির্দিষ্ট একটি দলের নাম বলা কঠিন। তবে আমি বলতে চাই, মেসি অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমাদের দলে যদি তার মতো সহজে গোল করতে পারে এমন একজন খেলোয়াড় থাকত, সেটি দারুণ হতো। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খুব ভালো খেলছে, তাই তাদের নাম বলা যায়। আবার ব্রাজিলকেও বলা যায়।’
Advertisement
মরিয়াসু ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আনচেলত্তিকে আমি একজন কোচ হিসেবে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। তিনি সবসময়ই অসাধারণ কাজ করেছেন এবং পাঁচটি ভিন্ন লিগে শিরোপা জিতেছেন। তিনি একজন দুর্দান্ত কোচ। আমি জানি না আমি কখনও তার মতো হতে পারব কি না। ফুটবলে ব্রাজিল শীর্ষ পর্যায়ের একটি দেশ, তাই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন সহজ নয়। কিন্তু তিনি ফল এনে দিচ্ছেন এবং নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করছেন।’
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হলেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই জাপান কোচের।তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে। আমরা তাদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানি, তবে এটাও জানি যে আমাদেরও সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের লক্ষ্য পরের রাউন্ডে ওঠা এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রস্তুতি নেব। ব্রাজিল খুবই শক্তিশালী দল, কিন্তু আমরা জয়ের জন্যই লড়ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নকআউট পর্বে উঠতে পেরে আমরা আনন্দিত। এখন আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলব এবং জয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করব।’
জাপান-সুইডেন ম্যাচের পর জাপানই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা একমাত্র এশিয়ান দল। এখনও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওঠার সুযোগ রাখলেও তা নিশ্চিত হয়নি।
Advertisement
মরিয়াসুর মতে, গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জনই জাপানি ফুটবলের উন্নতির প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের প্রচেষ্টায় এই দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছি এবং সেটিরই যোগ্য ছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে ওঠা, আর সেটি জাপানি ফুটবলের শক্তিরই প্রমাণ। আমরা শুধু জাপানের প্রতিনিধিত্ব করছি না, এশিয়ার বাছাইপর্ব পেরিয়ে এখন পুরো এশিয়ার প্রতিনিধিত্বও করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো নিজের দেশ এবং একই সঙ্গে এশিয়া মহাদেশকে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করা।’
আরআর/এমএমআর