রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রজাতির ময়ূর-ময়ূরী দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে পুরুষ ময়ূরের পেখম মেলে নাচের দৃশ্য মুগ্ধ করে সব বয়সী দর্শনার্থীকে। সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করা এবং স্বাভাবিক আচরণের অংশ হিসেবেই পুরুষ ময়ূর এভাবে রঙিন পেখম মেলে।
Advertisement
সাধারণত মেঘলা আবহাওয়া বা বৃষ্টির পূর্বাভাসে ময়ূর বেশি পেখম মেলে নাচে। তবে উজ্জ্বল রোদেও তাদের বর্ণিল পালক ঝলমল করে ওঠে, যা দর্শকদের কাছে সমান আকর্ষণীয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) জাতীয় চিড়িয়াখানায় নীল ময়ূর প্রজাতির তিনটি পুরুষ ময়ূরকে একসঙ্গে পেখম মেলতে দেখা যায়। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে খাঁচার সামনে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
পেখম মেলেছে নীল ময়ূর
Advertisement
উত্তরা থেকে আসা দর্শনার্থী শারমিন বলেন, ‘অনেকবার চিড়িয়াখানায় এসেছি। কিন্তু কখনো ময়ূরের পেখম মেলার ছবি তুলতে পারিনি। আজ একসঙ্গে কয়েকটি ময়ূরকে পেখম মেলতে দেখে খুব ভালো লাগছে।’
শারমিনের বন্ধু মিশকাত বলেন, শুনেছি ময়ূর কেবল বৃষ্টির সময় পেখম মেলে। আজ প্রচণ্ড রোদেও ময়ূরকে পেখম মেলতে দেখলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার দুপুরের পর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে তাদের বিভিন্ন খাচার সামনে ঘুরতে দেখা গেছে। কাউকে আবার গাছের ছায়ায়, লেকের ধারে বসে থাকতেও দেখা গেছে। চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মেলে বানরের। কলা, পেয়ারাসহ নানান জাতের ফল খেতে দেখা যায় বানরুগুলোকে।
চিড়িয়াখানার প্রবেশ গেটে কাঠাল বিক্রি করতে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের। বড় কাঠাল ২৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বড় কাঠালের দরদাম করতে গিয়ে এক নারী বলে উঠেন, আপনাদের কাঠাল পাখি খায়। এত দামে বিক্রি করছেন কেনো?
Advertisement
জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়
এছাড়া বাঘ, হরিণ, সিংহ, জিরাফ, জলহস্তির খাচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে জাতীয় চিড়িয়াখানার আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ কারণে বর্তমানে চিড়িয়াখানায় আসা অনেক দর্শনার্থীকেই মহিষটির খোঁজ করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২১ জুন (রোববার) প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলআরআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া মহিষটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পরিচর্যা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার দেবের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এসএম/এমএএইচ/