রাজনীতি

জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি ও বিরোধীদলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে  

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারবো। শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি কিংবা বিরোধীদল—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লড়াই হবে সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন শুধু রামিসা নয়, প্রতিটি মেয়ের পরিবারের হয়ে আমি লড়বো: জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ একই দিনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো। আরেকটি ফেলে দেওয়া হলো। অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।

Advertisement

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শাসনের যে ধারা অতীতে শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, জনগণ চেয়েছিল সেই ধারার পরিবর্তন হোক। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য। দীর্ঘদিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে মাসের পর মাস সংলাপের পর জুলাই সনদ তৈরি করলো। তার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আফসোস! বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করলো। ফলে কোনো পরিবর্তন আসলো না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এরই মধ্যে সব মৌলিক বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে। তারা স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সেসব আগের জায়গায় থেকে গেলো।

তিনি আরও বলেন, জনগণ আজ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও। তাদের ভোটের মূল্যায়ন কেন করা হলো না? নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল বলেছে আমরা গণভোট মানি, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলুন। যারা এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তাদের প্রায় ৭০ ভাগ ভোট অগ্রাহ্য হবে কেন? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা অনেক ত্যাগ ও কুরবানি স্বীকার করেছেন। হয়তো আরও ত্যাগ, কুরবানির জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। কেউ যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয়, আমরা চুপ করে বসে থাকবো না। সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়াই চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ন্যায় ও কল্যাণের ওপরে দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আমাদের ভূমিকা থাকবে, দেশবাসী ততদিন আমাদের দোয়া ও সহযোগিতা করবেন এবং পাশে থাকবেন। প্রয়োজনে সমালোচনা ও প্রতিবাদও করবেন, আমরা স্বাগত জানাবো।

Advertisement

বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, জনগণের দেওয়া রায় সরকারি দল অগ্রাহ্য করলেও আমরা বিরোধী দল অগ্রাহ্য করবো না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে এসেছি। এরই মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। এ রায় দিয়েছে জনগণ, জনগণের স্বার্থেই এ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের অধিকার আদায়ে অনড় থাকুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু: জামায়াত আমির

জামায়াত আমির বলেন, সমাজ ভালো নেই। ৫-৭ বছরের মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। গতকালও মা-মেয়েসহ চারজনকে খুন করা হয়েছে। গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুলের কমিটি গঠন করার লালসা পূরণ করার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় ইউনিয়নের দায়িত্বশীল সাইফুল্লাহ বারীকে দিনের বেলায় আপসের কথা বলে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়েছে। তার সঙ্গী সালাউদ্দিনকে কুপিয়ে স্পাইনাল কর্ড কেটে দেওয়া হয়েছে। সে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে না। তার বেঁচে থাকাই দুঃসহ যন্ত্রণার বিষয়। মানুষ অল্প স্বার্থের জন্য কতটা নির্মম ও বেপরোয়া হতে পারে এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে, তাদের অধীনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আছেন। তারপরও অহরহ এগুলো ঘটে যাচ্ছে। সাড়ে ১৫ বছরের কষ্ট ও এতগুলো জীবন ত্যাগের পরে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে মানুষ ভিন্ন কিছু আশা করে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জাতিকে কথা দিচ্ছি—জাতির স্বার্থে সংসদের ভেতরে আমাদের ভূমিকা পরিচালিত হবে। সরকার ভালো উদ্যোগ নিলে সহযোগিতা করেো, গণবিরোধী যাই গ্রহণ করবে তার প্রতিবাদ করবো, সামর্থ থাকলে আমরা প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই প্রয়াস সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমানতালে চলবে।

আরএএস/এমএমকে