আন্তর্জাতিক

এক রাতে ৬৬০ ড্রোন হামলা, ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে চান জেলেনস্কি?

রাশিয়ায় চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত রাতে ক্রিমিয়া, আজাভ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগর ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ থেকে ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন (মানববিহীন আকাশযান-ইউএভি) ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। 

Advertisement

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তুলা অঞ্চলের নোভোমস্কভস্ক শহরে অবস্থিত অ্যাজট রাসায়নিক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে এবং এক নারী আহত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা তাস।

এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা বন্দর নগরী ক্রিমিয়াতে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ড্রোন হামলা এবং রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ক্রিমিয়ান উইন্ড টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্যমতে, বিশেষ করে কের্চ শহর এবং কের্চ ফেরি পারাপার এলাকার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কের্চের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে আগুন লাগে। সেখানে রুশ বাহিনী Pantsir-S1 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্টেশন মোতায়েন করে রেখেছে।জানা গেছে, এমতি পরিস্থিতির মধ্যে রুশ কর্তৃপক্ষ ক্রিমিয়ার ব্রিজ দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

Advertisement

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এটি চলতি বছরের শুরু থেকে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

ড্রোন হামলা চালানো অঞ্চল

রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চল, ব্রিয়ানস্ক অঞ্চল, কুরস্ক অঞ্চল, কালুগা অঞ্চল, লিপেৎস্ক অঞ্চল, রোস্তভ অঞ্চল, ভোরোনেজ অঞ্চল, তুলা অঞ্চল, রিয়াজান অঞ্চল, আস্ত্রাখান অঞ্চল এবং মস্কো অঞ্চল -এর পাশাপাশি রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর এলাকার আকাশ থেকে ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

তাস-এর তথ্যমতে, এর আগে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছিল ১৭ মে, যখন রাশিয়া ৫৫৬টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছিল। এছাড়া ১৮ জুন ভোরে ৫৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানানো হয়েছিল।

Advertisement

ক্রিমিয়ায় রাতভর বিস্ফোরণ

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, অধিকৃত ক্রিমিয়ায় রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে উপদ্বীপটিতে কার্যত এক ধরনের গোপন সামরিক আইনসদৃশ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সাপ্লাই রুট অচল করতে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে ইউক্রেন। একই ধরণের সংবাদ প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং পরে এটিকে নিজেদের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। এরপর ১৬ মার্চ ক্রিমিয়ায় একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ১৮ মার্চ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভ্লাদিমির পুতিন। এর তিন দিনের মাথায় ২১ মার্চ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আইন অনুমোদন করে রুশ পার্লামেন্ট।

কেএম