সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় নীলফামারীর সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোছা. আশিকা সুলতানার সাতদিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
Advertisement
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় করা এ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে এ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের আবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ জুন সকালে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন।
Advertisement
তখন সেখানে পুলিশ গেলে তা টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যাতে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’ লেখা ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে গ্রেফতার হওয়া সাবেক এমপি আশিকা সুলতানার নেতৃত্বে সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই মিছিলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশের অভিযোগ, আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে সাতদিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
Advertisement
আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুর করা একান্ত প্রয়োজন।
এমডিএএ/একিউএফ