খেলাধুলা

মিসর-ইরান ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রেইনবো পতাকায় অনুমতি ফিফার

বিশ্বকাপে শুক্রবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিসর ও ইরানের মধ্যকার ম্যাচে দর্শকদের রেইনবো পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছে ফিফা। তবে শহরের বার্ষিক প্রাইডফেস্ট উপলক্ষে অতিরিক্ত কোনো প্রচারণামূলক কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

Advertisement

ম্যাচটিকে ঘিরে কথিত ‘প্রাইড ম্যাচ’-এর বিরোধিতা করেছে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন। বিশেষ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালে প্রাইড আন্দোলনের প্রতীক বা সংশ্লিষ্ট কোনো উপস্থাপনা যেন সীমিত রাখা হয়।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচেই রেইনবো পতাকা বহনের অনুমতি রয়েছে। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে বা অফিসিয়াল ফ্যান জোনের বাইরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় অনুষ্ঠান—যেমন সিয়াটল প্রাইডফেস্ট—নিয়ন্ত্রণ করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আসর, যেখানে সব ধরনের পটভূমির মানুষকে স্বাগত জানানো হয়। সব যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের সমর্থকরা ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনে স্বাগত।’

Advertisement

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মানবাধিকারের সাধারণ বার্তা বহনকারী প্রতীক, যেমন রেইনবো পতাকা বা যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়কে প্রতিনিধিত্বকারী অন্যান্য পতাকা, ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী অনুমোদিত। তবে সেগুলো আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে হবে।’

ডিসেম্বরে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ থেকেই সিয়াটলের স্থানীয় আয়োজক কমিটি এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে টুর্নামেন্ট ভেন্যুর ভেতরের সব ধরনের কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ ফিফার হাতেই রয়েছে।

মিসর ও ইরান—উভয় দেশেই সমলিঙ্গের সম্পর্ক আইনত অপরাধ। ডিসেম্বরে ড্রয়ের পর মিসর ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ফিফাকে পাঠানো এক চিঠিতে ম্যাচ চলাকালে ‘সমকামিতাকে সমর্থন করে এমন যেকোনো কার্যক্রম’ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বুধবার রাতে দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও একই অবস্থান জানায়। তবে তারা এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে শুধু ‘এই আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করে।

Advertisement

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে ফিফাকে জানিয়েছে। ইরান ও মিসর—উভয়ই মুসলিম দেশ, যাদের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মিল রয়েছে। দুই ফেডারেশনের অবস্থান দুই দেশের জনগণের অভিন্ন মূল্যবোধ ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের অবস্থান হলো, এই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান বা প্রচারণামূলক কার্যক্রম স্টেডিয়ামের ভেতরে কিংবা ম্যাচের পরিবেশের অংশ হিসেবে থাকা উচিত নয়। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই অবস্থান ফিফাকে জানানো হয়েছে।

‘ম্যাচের পরিবেশ ও স্টেডিয়ামের উপস্থাপনা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনার সময় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতামত ও উদ্বেগকে ফিফার গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। দুই দেশের এই অভিন্ন অবস্থান সম্পর্কে ফিফাকে অবহিত করা হয়েছে এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে বা ম্যাচের আনুষ্ঠানিক পরিবেশে এ-সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠান বা প্রচারণামূলক কার্যক্রম না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছি।’ এদিকে, সিয়াটলের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজক কমিটির বৃহস্পতিবার ‘প্রাইড ম্যাচ ডে’ উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল।

আরএএইচইউএল/এসকেডি/এএসএম