আইন-আদালত

চেক ডিজঅনার মামলায় প্রক্সি দেওয়া মনোয়ারা দুই দিনের রিমান্ডে

চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়ে পরিচয় গোপনের অভিযোগে আটক মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

Advertisement

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন মনোয়ারাকে গ্রেফতার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আরও পড়ুন প্রক্সিকাণ্ডে আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শুনানিকালে বিচারক মনোয়ারার কাছে জানতে চান, তিনি আগে কখনো এ ধরনের কাজ করেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না’। নাসরিন সিকদারের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক— এমন প্রশ্নের উত্তরে মনোয়ারা বলেন, ‘কিছু না’। এরপর বিচারক জানতে চান, ‘কিছু না হলে কেন প্রক্সি হয়েছেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চেম্বারে কাজ করি। উকিল নিয়ে গেছে।’ এ সময় বিচারক তাকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সবকিছু খুলে বলার নির্দেশ দেন। পরে আদালত তিন দিনের পরিবর্তে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Advertisement

মামলার নথি অনুযায়ী, ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নাসরিন সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ তুলি। মামলার ধার্য তারিখ ছিল গত ১৬ জুন। ওই দিন নাসরিন আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপি তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।

এরপর বৃহস্পতিবার নাসরিনের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানির সময় আদালতের সন্দেহ হলে মনোয়ারার পরিচয় যাচাই করা হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন; ভুয়া পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আরও পড়ুন চেক ডিজঅনার মামলায় আসামির বদলে প্রক্সি দিতে এসে নারী আটক

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রকৃত আসামি নাসরিন সিকদার, প্রক্সি হিসেবে আদালতে হাজির হওয়া মনোয়ারা বেগম এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নাসরিন সিকদার ও হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারাকে প্রকৃত আসামি পরিচয়ে আদালতে হাজির হতে উদ্বুদ্ধ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখে ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেন, যদিও ওই মামলা পরিচালনার আইনগত ক্ষমতা তার ছিল না।

Advertisement

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরস্পরের যোগসাজশে আসামিরা আদালতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে মূল্যবান জামানতের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন।

এমডিএএ/কেএসআর