কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টোর ছোটগল্প ‘ঠান্ডা গোশত’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’। পরিচালনা ও প্রযোজনা করছেন শাহ নেওয়াজ খান সিজু ও সুমাইয়া আরজু মুহু।
Advertisement
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে চলচ্চিত্রটির শুটিং। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নির্মাতা।
ঠান্ডা গোশত ২.০ স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা, সুমন আনোয়ার, আনিয়াহ আবদিয়াহ তাসনিম, ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা এবং সিফাত বন্যা।
নির্মাতাদ্বয় জানান, এটি মান্টোর মূল গল্পের কোনো রিমেক বা রূপান্তর নয়। বরং তার সাহিত্যে উঠে আসা সহিংসতা, নৈতিক সংকট, অপরাধবোধ এবং মানবিক পতনের বিষয়গুলোকে সমকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতায় নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
Advertisement
স্বল্পদৈর্ঘ্যটির গল্পে দেখা যাবে, এক সাধারণ মধ্যবিত্ত স্বামী ও বাবার অস্বাভাবিক আচরণের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা এক ভয়াবহ সত্য। ব্যক্তিগত অপরাধ, অপরাধবোধ এবং তার পারিবারিক অভিঘাতকে ঘিরেই এগিয়েছে এর আখ্যান।
নির্মাতা শাহ নেওয়াজ খান সিজু বলেন, ‘আজ থেকে ৭৬ বছর আগে সাদাত হাসান মান্টো তৎকালীন অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সামাজিক বাস্তবতার যে নগ্ন প্রতিচ্ছবি ঠান্ডা গোশত গল্পটির মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন, দুঃখজনকভাবে তা আজও বদলায়নি। দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বাস্তবতায় যেমন নারীরা নিরাপদ ছিল না, আজও এই স্বাধীন রাষ্ট্রে নারীরা নিরাপদ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক নারী ও শিশুনির্যাতনের ঘটনাগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রায় ছয় বছর ধরে এই গল্পটি নিয়ে ভাবছি। মান্টো যেমন তার সময়ের অস্বস্তিকর সত্যগুলো নির্ভীকভাবে তুলে ধরেছিলেন, আমরাও তেমনি আমাদের সময়ের গল্প বলতে চাই সৎ, আপসহীন ও নির্ভীকভাবে।’
এমআই/এএসএম
Advertisement