ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, যানজট মিলিয়ে এখন মানসিক চাপ যেন দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিনের শেষে নিজের ঘরটাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে শান্তির জায়গা। তবে শুধু দামি আসবাব বা সুন্দর সাজসজ্জা থাকলেই হবে না, ঘরের পরিবেশও হতে হবে আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক।
Advertisement
অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের রং, আলো, আসবাবের বিন্যাস, পরিচ্ছন্নতা এমনকি ছোট ছোট সাজসজ্জার উপাদানও মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই কয়েকটি সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘরকে আরও শান্ত, আরামদায়ক এবং ইতিবাচক পরিবেশে রূপ দেওয়া সম্ভব।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুনঘরে অতিরিক্ত জিনিসপত্র জমে থাকলে তা শুধু জায়গা দখল করে না, অনেক সময় মানসিক অস্থিরতাও বাড়িয়ে দেয়। অগোছালো ঘরে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখুন। প্রয়োজনীয় জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করুন। পরিষ্কার ও গোছানো ঘর মনকে অনেক বেশি স্বস্তি দেয়।
হালকা ও শান্ত রং বেছে নিনঘরের দেয়াল, পর্দা, বিছানার চাদর বা কুশনের রঙও মানসিক প্রশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা নীল, সবুজ, বেইজ বা প্যাস্টেল রঙ চোখকে আরাম দেয় এবং ঘরকে আরও প্রশস্ত ও উজ্জ্বল দেখায়। অন্যদিকে খুব বেশি গাঢ় বা উজ্জ্বল রং অনেক সময় চোখে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই শোবার ঘরে শান্ত রঙ ব্যবহার করাই ভালো।
Advertisement
ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রবেশ করলে পরিবেশ অনেক বেশি সতেজ লাগে। সম্ভব হলে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ঢুকতে দিন। প্রাকৃতিক আলো শুধু ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, মনও ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ কমিয়ে বাতাসও সতেজ রাখে।
ঘরে গাছ রাখুনইনডোর প্ল্যান্ট এখন শুধু সাজসজ্জার অংশ নয়, এটি মানসিক প্রশান্তিরও একটি সহজ উপায়। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি কিংবা স্পাইডার প্ল্যান্টের মতো গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ অনুভূতি এনে দেয়। সবুজের উপস্থিতি অনেকের মনকে শান্ত করে এবং ঘরকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আরামদায়ক আলো ব্যবহার করুনরাতে খুব বেশি উজ্জ্বল সাদা আলো ব্যবহার না করে নরম, উষ্ণ আলোর ল্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে শোবার ঘরে হালকা আলো ব্যবহার করলে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয় এবং ঘুমাতেও সুবিধা হতে পারে।
প্রিয় স্মৃতি দিয়ে সাজানোঘরের এক কোণে পরিবারের ছবি, ভ্রমণের স্মৃতি, প্রিয় কোনো শিল্পকর্ম বা নিজের পছন্দের বই সাজিয়ে রাখতে পারেন। এসব ছোট ছোট জিনিস ঘরের সঙ্গে আবেগের সংযোগ তৈরি করে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।তবে অতিরিক্ত সাজসজ্জা না করে পরিমিতভাবে ব্যবহার করাই ভালো।
Advertisement
ঘরে হালকা সুগন্ধও মানসিক প্রশান্তি আনতে সাহায্য করতে পারে। তাজা ফুল, সুগন্ধি মোমবাতি, এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার বা প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে খুব তীব্র সুগন্ধ এড়িয়ে চলাই ভালো। হালকা ও মৃদু সুগন্ধ বেশি আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
ব্যক্তিগত একটি শান্ত কোণ রাখুনঘরে একটি ছোট কোণ শুধু নিজের জন্য সাজাতে পারেন। সেখানে একটি আরামদায়ক চেয়ার, ছোট বুকশেলফ, নরম আলো বা একটি গাছ রাখতে পারেন।
অবসরে বই পড়া, ধ্যান করা, প্রার্থনা করা কিংবা কয়েক মিনিট নীরবে বসে থাকার জন্য এমন একটি জায়গা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন বাথরুমে দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পোশাকের যেসব ক্ষতি হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুনযত সুন্দরই সাজানো হোক, ঘর যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে সেই সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। নিয়মিত ধুলাবালি পরিষ্কার করুন, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা পরিষ্কার রাখুন। পরিচ্ছন্ন ঘর শুধু স্বাস্থ্যকর নয়, মানসিকভাবেও অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।
আরও পড়ুন সামান্য পরিবর্তনেই রান্নাঘর হবে পরিপাটিমানসিক শান্তি শুধু বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না, তবে নিজের ঘরের পরিবেশও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কয়েকটি ছোট পরিবর্তন ই আপনার ঘরকে আরও শান্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, সবচেয়ে সুন্দর ঘর সেই ঘর, যেখানে প্রবেশ করলেই মন ভালো হয়ে যায়।
সূত্র: অ্যাপার্টমেন্ট থিওরি, হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই