চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ((শপথ স্থগিত) সরওয়ার আলমগীর বলেছেন, ফটিকছড়ির সাংবাদিকরা যখন তার প্রশংসা করেন, তখন তিনি মনে করেন তিনি কোনো না কোনো জায়গায় ‘বেকায়দায়’ আছেন। আর যখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন, তখন তিনি মনে করেন তিনি সঠিক পথে আছেন।
Advertisement
রোববার (২৮ জুন) ফটিকছড়ি সরকারি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ টেনে সরওয়ার আলমগীর বলেন, ফটিকছড়ির সাংবাদিকরা আমাকে খুব ভালোবাসে। যখন তারা আমাকে মালিশ করে, তখন বুঝি কোনো না কোনো জায়গায় আমি বেকায়দায় আছি। আর যখন আমার বিরুদ্ধে লেখে, তখন বুঝি আমি সঠিক পথে আছি।
আরও পড়ুন বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে থাকবে: সরওয়ার আলমগীরসমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। ফ্যাসিবাদ চলে গেলেও এর চেয়ে বড় ফ্যাসিবাদ আমাদের ঘাড়ে চেপেছিল, সেটি হলো মবইজম। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মবইজমেরও পরাজয় হয়েছে।
Advertisement
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সরওয়ার আলমগীর বলেন, অতীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছোট ছোট শিশুদের বসিয়ে রাখা হতো এবং তারা ‘মবইজমে’ সম্পৃক্ত হতো। তার দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ফটিকছড়ির মানুষ এর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে তাকে ঋণখেলাপি বলা হয়েছিল, পরে হলফনামা নিয়ে ভুলের অভিযোগ আনা হয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মামলা রয়েছে এবং প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে বলে তিনি দাবি করেন। ইসলামের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন আসলাম-সারোয়ারের সংসদে যোগদান ঝুলে আছে আদালতেশিক্ষার উন্নয়নের বিষয়ে সরওয়ার বলেন, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজে একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফটিকছড়িতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. ইদ্রিস মিয়া, প্রফেসর মো. আবদুল খালেক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
Advertisement
এমআরএএইচ/এমএমকে