কানাডিয়ান ফুটবলের জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠে ইতিহাস গড়েছে কানাডা। এই জয় দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
Advertisement
গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক উন্নতির মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করে তুলেছে কানাডা। ২০১৮ সালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল দলটি। আর এবার নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা প্রমাণ করে দিল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা আর শুধুই অংশগ্রহণকারী নয়—বরং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি ছিল কানাডার ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ। শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না জেসি মার্শের দল। একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল উদ্বেগ। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধের কিছু সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও পাল্টা আক্রমণে বিপদের আভাস দিয়েছিল।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় কানাডার সবচেয়ে বড় তারকা আলফোনসো ডেভিস মাঠে নামার পর। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে না খেলা বায়ার্ন মিউনিখ তারকা পুরোপুরি ফিট না থাকলেও তার উপস্থিতিই কানাডার আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগও তখন চাপে পড়ে যায়।
Advertisement
অবশেষে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার একটি ক্রস হেড করে বক্সের বাইরে পাঠালে সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন স্টিফেন ইউস্তাকিও। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত অন্টারিওতে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার বুকে বল নামিয়ে হাফ-ভলিতে নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও সেই শট ঠেকাতে পারেননি।
গোল হতেই আনন্দে ফেটে পড়েন কানাডার ফুটবলাররা। সবাই ছুটে গিয়ে ইউস্তাকিওকে জড়িয়ে ধরেন। শেষ বাঁশি বাজার পর সেই উচ্ছ্বাস আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়, এটিই যে কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ সাফল্য!
এই জয় শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি, বরং কানাডার ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে কানাডা। ইউস্তাকিওর সেই এক শট হয়তো বহু বছর ধরে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এমএমআর
Advertisement