আম রপ্তানির ক্ষেত্রে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (VHT) বাধ্যতামূলক হলেও দেশে এ প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত বলে জানিয়েছেন বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ।
Advertisement
তিনি বলেন, বিদেশে রপ্তানির আগে প্রতিটি আম পোকামাকড় ও জীবাণুমুক্ত করতে আধুনিক ভিএইচটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও খরচ বহন করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা / প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে বছরে নষ্ট হয় ২৫-৫০ হাজার কোটি টাকার ফলশনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
রপ্তানিতে প্রযুক্তিগত ঘাটতিড. মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, উন্নত দেশগুলো এখন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফলের গুণগত মান যাচাই করছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি চালু করা প্রয়োজন, যাতে রপ্তানিযোগ্য ফল আরও মানসম্মতভাবে বাছাই করা যায়।
Advertisement
ফল রপ্তানির আরেকটি বড় বাধা হিসেবে পরিবহন ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এক কেজি ফল বিদেশে পাঠাতে যদি কয়েকশ টাকা পরিবহন খরচ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরাতিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে ডিহাইড্রেটেড বা শুকনো ফলের বিশাল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি হবে।
পাহাড়ি এলাকায় ফল চাষে গুরুত্বদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বিপুল অনাবাদি জমিকে ফল উৎপাদনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, বিশ্বের প্রায় সব পাহাড়ি এলাকাতেই ফলের চাষ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে পাহাড়ি অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ে বাণিজ্যিক ফল চাষের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
আঙুরসহ নতুন নতুন ফলের চাষে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত প্রযুক্তি প্যাকেজ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শুধু চারা বিক্রিকেন্দ্রিক কার্যক্রম না করে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
Advertisement
ড. মেহেদী মাসুদ বলেন, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, উন্নত রপ্তানি প্রযুক্তি ও বছরব্যাপী উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের ফল খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য, গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।
ইএইচটি/এএসএ