সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে রাখা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কেউ এটি করেন ঘরকে পরিপাটি রাখার জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি দিনের একটি সাধারণ কাজ মাত্র। তবে মনোবিজ্ঞান বলছে, এই ছোট অভ্যাসটি মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে একটি ছোট কাজ সম্পন্ন করার অনুভূতি আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক বার্তা পাঠায়। এর ফলে দিনটি আরও সংগঠিতভাবে শুরু করা সহজ হয় এবং মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত মনে হয়। এছাড়া যারা সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখেন, তাদের রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, কারণ গোছানো বিছানা ঘরকে পরিপাটি ও গোছানো রাখতে সাহায্য করে।
নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করেঘুম থেকে ওঠার পর পুরো দিনের কী ঘটবে, তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কাজের চাপ, যানজট, হঠাৎ কোনো সমস্যা, অনেক কিছুই দিনের পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে। কিন্তু সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখা এমন একটি কাজ, যা সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে।
এই ছোট সাফল্য অবচেতন মনে নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে দিনটি যতই ব্যস্ত বা কঠিন হোক, মানসিকভাবে কিছুটা স্থির থাকা সহজ হয়।
Advertisement
অগোছালো পরিবেশ অনেক সময় অজান্তেই মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিছানা এলোমেলো থাকলে ঘরও অগোছালো মনে হয়, যা মস্তিষ্কে বিশৃঙ্খলার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, পরিপাটি ও গোছানো বিছানা চোখে পড়লে মস্তিষ্ক দ্রুত একটি ইতিবাচক সংকেত পায়। এতে মন শান্ত থাকে এবং দিন শুরু হয় আরও স্বস্তিদায়ক অনুভূতি নিয়ে।
আত্মবিশ্বাস ও কর্মউদ্যম বাড়ায়দিনের শুরুতেই একটি কাজ সফলভাবে শেষ করার অনুভূতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট অর্জনও মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে। ডোপামিনকে অনেক সময় 'ফিল-গুড' রাসায়নিক বলা হয়, যা উৎসাহ ও প্রেরণা বাড়াতে সহায়ক।
এই ইতিবাচক অনুভূতি দিনের অন্যান্য কাজেও প্রভাব ফেলে। ফলে কঠিন কাজ শুরু করার আগ্রহ এবং কর্মক্ষমতা দুটোই বাড়তে পারে।
রাতে ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারেকিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখেন, তাদের অনেকেই রাতে তুলনামূলক ভালো ঘুমের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
Advertisement
সারাদিনের কাজ শেষে একটি পরিষ্কার ও পরিপাটি বিছানায় ফিরে আসা মানসিকভাবে আরাম দেয়। এতে শরীর ও মন বিশ্রামের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হতে পারে। যদিও ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের সময়, আরামদায়ক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাইন্ডফুলনেস চর্চায় সাহায্য করেবিছানা গুছিয়ে রাখা এক ধরনের মাইন্ডফুলনেস বা বর্তমান মুহূর্তে সচেতন থাকার অনুশীলন হিসেবেও কাজ করতে পারে। মাত্র দুই-তিন মিনিটের এই কাজের সময় মন একটি নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগী থাকে। এর ফলে দিনের শুরুতেই অযথা দুশ্চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। নিয়মিত এমন ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন প্রিয়জনের স্পর্শ যেভাবে কমিয়ে দিতে পারে মানসিক কষ্ট ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে। সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখা তেমনই একটি সহজ অভ্যাস, যা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক প্রশান্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন কাদায় হাঁটলে যেসব উপকার পেতে পারেনতাই দিনের শুরুটা যদি একটু গোছানো এবং ইতিবাচকভাবে করতে চান, তাহলে সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখার অভ্যাস শুরু করতে পারেন। কয়েক মিনিটের এই ছোট কাজটি হয়তো আপনার পুরো দিনের মানসিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, সাইকোলজি টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই