ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজি না হওয়ায় এমপিকে ফোন করার কথা বলেন ওই এনসিপি নেতা।
Advertisement
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ওই এনসিপির নেতার একটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিভিন্ন কাজ নিয়ে দিনে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিস ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। তাকে এভাবে ভূমি অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি জমির দালালি বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারপরও তিনি ভূমি অফিসে যাতায়াত বন্ধ করেননি।
Advertisement
মঙ্গলবার উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযান পরিচালনা করে মিলনকে দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাকে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া অডিও কথোপকথনে শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানকে বলছেন, মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দলের এক নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। পরে বিস্তারিত জানতে পেরে কোনো তদবির করিনি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলাম।’
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থি। এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Advertisement
জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরির একাধিক ফুটেজও রয়েছে। তাছাড়া তার সেবা প্রতিষ্ঠানে কোন সেবা কত মূল্যে তিনি প্রদান করেন, সে-সংক্রান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ্যে টানাননি। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম