খেলাধুলা

শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড

ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো অপেক্ষায় ছিলো প্রতিপক্ষের। অবশেষে ডিআর কঙ্গোর শক্তিশালী বাধা কাটিয়ে জয় পেলো ইংল্যান্ড। ২-১ গোলে এই জয়ের পর ইংল্যান্ড শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলো মেক্সিকোকে। এস্টাডিও আজতেকায় ৫ জুলাই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

Advertisement

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর নকআউট পর্বেও শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেইন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের দল।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব-৩২-এর ম্যাচে শুরু থেকেই চমকে দেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই চ্যান্সেল এমবেম্বার দারুণ লম্বা পাস থেকে বাম প্রান্তে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলেই ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেন তিনি।

গোল হজমের পর ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণ নিলেও আক্রমণে ছিল ধারহীন। জুদ বেলিংহ্যাম, মার্কাস রাশফোর্ড ও হ্যারি কেইন একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি ছিলেন দুর্দান্ত। বেলিংহ্যামের হেড, কেইনের ভলি এবং রাশফোর্ডের শট রুখে দিয়ে প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

Advertisement

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডিআর কঙ্গো ব্যবধান দ্বিগুণ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ইয়োয়ান উইসার প্রথম ছোঁয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইংল্যান্ড। বিরতির আগে কেন পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পরও স্পটকিক দেয়নি রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য একের পর এক পরিবর্তন আনেন টুখেল। বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন ও এবেরেচি এজেকে মাঠে নামানোর পর ইংল্যান্ডের আক্রমণে গতি আসে।

অবশেষে ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরে। বাঁ প্রান্ত থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রসে হেডে বল জালে জড়ান অধিনায়ক হ্যারি কেন। পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেললেও এবার আর এমপাসি ইংল্যান্ড অধিনায়কের হেড ঠেকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৮৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। বেলিংহ্যামের শট প্রথমে এমপাসি ঠেকালেও ফিরতি আক্রমণে গর্ডনের পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক শক্তিশালী শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে দেন কেন। বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল এবং ম্যাচে দ্বিতীয়।

Advertisement

বাকি সময়ে ডিআর কঙ্গো সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। যোগ করা সময়েও উইসার একটি ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা।

এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে টুখেলের দল। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত সেই লড়াই।

টানা দুই নিষ্প্রভ গ্রুপ ম্যাচের পর নকআউট পর্বে কঠিন পরীক্ষা উতরে গেলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেনের নেতৃত্ব ও জোড়া গোল নতুন করে শিরোপা স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে ইংলিশ সমর্থকদের।

আইএইচএস/