খেলাধুলা

বিশ্বকাপ দেখতে স্কুলে না যাওয়ার পরামর্শ টুখেলের

নিজের দেশ বিশ্বকাপে খেলছে, স্কুল পড়ুয়ারা এই সময়ে অনেকেই স্কুলে যেতে চায় না! ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টুখেল এই সময়ে অভিবাবকদের উদ্দেশ্যে দারুণ এক পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন কোনো একটা অজুহাত দিয়ে এদিন স্কুল বাদ দিয়ে বাচ্চাদের খেলা দেখার সুযোগ দেওয়া উচিত। টুখেলের এমন মন্তব্য ব্রিটিশ সরকারের অন্দরমহলেও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচ যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, সোমবার শিশুদের স্কুলে যাওয়া উচিত।

Advertisement

মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ব্রিটিশ সময় রাত ১টায়। স্টারমারের এই মন্তব্য আসে, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর টুখেলের এক সংবাদ সম্মেলনের পর। সেখানে তিনি মজা করে অভিভাবকদের বলেছিলেন, সন্তানদের যেন মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দেখতে দেওয়া হয়, প্রয়োজনে পরদিন তারা স্কুলে না গেলেও সমস্যা নেই।

ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ বলেন, 'স্কুলে না যাওয়ার জন্য একটা অজুহাত লিখে দিন, আর ওদের খেলা দেখতে দিন। স্কুলে তো প্রতিদিনই যাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বকাপ আসে চার বছর পরপর। তাই ওদের খেলা দেখতে দিন। আর চার দিন পর আমাদের একটি বড় ম্যাচ। সেখানে সবার সমর্থন দরকার, বিশেষ করে শিশুদের।'

টুখেলের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কি না, সেটি অভিভাবকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, 'এটি সম্পূর্ণ অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত। আমরা চাই সবাই ম্যাচটি উপভোগ করুক, কিন্তু সোমবার শিশুদের স্কুলে যাওয়া উচিত।'

Advertisement

এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ-এর পরামর্শের কথাও উল্লেখ করেন। ভোররাতে ম্যাচ দেখতে চাইলে তিনি বিকেলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার ('ডিস্কো ন্যাপ') পরামর্শ দিয়েছেন।

মুখপাত্র বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজেও রোববার বিকেলে একটু ঘুমাবেন এবং পরদিন যথারীতি কাজে ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীও অন্য সবার মতোই ম্যাচ জেগে দেখবেন কি না, সেই একই দ্বিধায় আছেন।'

এলবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ বলেন, তিনি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বুঝতে পারেন, তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'আমি কারও আনন্দ নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় তখনই, যখন তরুণরা ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। আমি বুঝি, তরুণ-তরুণীরাও ম্যাচটি দেখতে চায়। আমিও দেখব, বিকেলে একটু ঘুমিয়ে নেব এবং পরদিন এমনভাবে কাজে যাব যেন কিছুই হয়নি।'

ম্যাচটি গভীর রাতে হওয়ায় ইংল্যান্ডে এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। শিশু দেখাশোনার অ্যাপ বাবল (Bubble) জানিয়েছে, সোমবার সকালের জন্য বুকিং ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক অভিভাবক রাত জেগে ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করছেন।

Advertisement

ইংল্যান্ডের শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক সমর্থক সোমবার একদিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান, যাতে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে ম্যাচ দেখতে পারেন।

তবে সরকার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার ইংল্যান্ড দলকে সমর্থন করলেও সরকারি ছুটির তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

তবে ভবিষ্যতে জাতীয় ছুটির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপ জিতে যায়, তাহলে সে উপলক্ষে বিশেষ জাতীয় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আরআর/এসকেডি/এসএনআর