বৃহস্পতিবার কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে ২-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।
Advertisement
ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও, ভিএআরের (VAR) সহায়তায় পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে রোনালদোর কল্যাণে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। এরপর তারা এগিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া আবারও জাল খুঁজে পেলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) হস্তক্ষেপে সেই গোল বাতিল হয়।
আন্তর্জাতিক রেফারি পাওলো সেজার অলিভেইরা (পিসি অলিভেইরা) দুই সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে মন্তব্য করেন। ম্যাচটি পরিচালনা করেন নরওয়ের রেফারি এস্পেন এসকাস।
তিনি বলেন, "ভ্লাসিচের বলের জন্য লড়াই করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাত দিয়ে রেনাতো ভেইগার কোমর জড়িয়ে ধরেন এবং তার পায়েও স্পর্শ করেন। এতে আক্রমণকারী খেলোয়াড়ের ওপর স্পষ্ট প্রভাব পড়ে, যিনি হেড করে গোল করার সুযোগ পেতে পারতেন। তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ একেবারেই সঠিক ছিল এবং পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তও যথাযথ।"
Advertisement
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া গোল সম্পর্কে তিনি বলেন, "ক্রস করার মুহূর্তে পাসালিচ অনসাইড অবস্থানে ছিলেন। খালি চোখে মাতানোভিচের বলে স্পর্শ করা বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু বলে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ঠিক এই ধরনের পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ভিএআর গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বলে স্পর্শের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মাতানোভিচের সেই স্পর্শের পর বলটি রেনাতো ভেইগার মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে, ফলে পাসালিচ অফসাইড হয়ে যান। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল।"
ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল নিয়ে ফিফা থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে:'অ্যাডিডাস ফুটবলের ট্রাইওন্ডা (Trionda) অফিসিয়াল ম্যাচ বলে ব্যবহৃত কানেক্টেড বল প্রযুক্তি (Connected Ball Technology)-এর তথ্য অনুযায়ী, গোলের আগে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই স্পর্শই অফসাইড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং রেফারি সঠিকভাবে গোলটি বাতিল করেন।
ট্রাইওন্ডা বলের ভেতরে থাকা আইএমইউ (IMU) সেন্সর অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে। সম্প্রচারে এটি 'হার্টবিট গ্রাফিক' হিসেবে প্রদর্শিত হয়, যা ম্যাচ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করে।'
আরআর/এসকেডি/জেআইএম
Advertisement