আন্তর্জাতিক

মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের একটি ছোট শহরের মেয়র মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি জাপানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

৩৫ বছর বয়সী শোকো কাওয়াতা (যিনি কিয়োটোর দক্ষিণে অবস্থিত ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র) জানান, তিনি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য সময়কে সামনে রেখে প্রসবের আগে দুই মাস এবং পরে দুই মাস দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।

তবে জাপানে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির কোনো আইনি বিধান না থাকায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি নিচ্ছেন না। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি মেয়র শিগেতো নোসে।

মে মাসে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনার কথা জানানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বলেন, সন্তান জন্ম দেওয়া ও পরিবারকে সময় দেওয়ার অধিকার একজন জনপ্রতিনিধিরও রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কাওয়াতা অন্য নারীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করার মতো একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Advertisement

তবে সমালোচকদের দাবি, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছেড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য দূরে থাকা দায়িত্বজ্ঞানহীন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে মেয়র হওয়ার আগেই তা করা উচিত ছিল। আবার অনেকে মাতৃত্বকালীন সময়ে তার বেতন কমানোরও দাবি তুলেছেন।

এসব সমালোচনায় বিচলিত নন কাওয়াতা। তিনি বলেন, তিনি নিজের কাজ ভালোবাসেন এবং এখনই পরিবার গঠনের উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন।

তার ভাষায়, মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য যদি নারী রাজনীতিকদের সমালোচনা করা হয়, তাহলে কার্যত সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতা থাকা ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী সব নারীকেই জনপদ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে।

হিরোশিমা প্রিফেকচারের সাবেক মেয়র শিনজি ইশিমারু মনে করেন, মূল প্রশ্ন হলো মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কীভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে, সেটি নিশ্চিত করা।

Advertisement

৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন শোকো কাওয়াতা। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে যুক্ত হন।

জাপানের রাজনীতি এখনও পুরুষপ্রধান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১ হাজার ৭২০টি স্থানীয় সরকারের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের প্রধান নারী।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও লিঙ্গসমতায় জাপানের অবস্থান এখনও পিছিয়ে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ সূচকে ১৪৬ দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১১৮তম, যা জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম