ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তারা অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার ( ২ জুন) মধ্যরাতে তাদের ফোনালাপ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
Advertisement
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ফোনালাপে গুতেরেস ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শহিদ হওয়ার ঘটনায় পুনরায় সমবেদনা জানান এবং ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে ওই ফোনালাপে তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বন্ধে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং চলমান আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
Advertisement
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে ১৪ জুন একটি সমঝোতা স্মারক ভার্চুয়ালি স্বাক্ষর করে দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
Advertisement
কেএম