খেলাধুলা

‘আমি শিশুর মত ঘুমাবো’ কেন এমন কথা বললেন এন্ড্রিক?

ব্রাজিলের হয়ে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই তরুণ ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লুকাস পাকেতার চোটের কারণে শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

Advertisement

তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দলের অনুশীলন ক্যাম্পে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ শান্ত এবং বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নিজের ওপর আস্থা রেখেছেন।

শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা তাকে উদ্বিগ্ন করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ১৯ বছর বয়সী এন্ড্রিক বলেন, কোচ কার্লো আনচেলত্তি যাই সিদ্ধান্ত নিন না কেন, তার দৈনন্দিন রুটিনে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

এন্ড্রিক বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি শিশুর মতো ঘুমাব। আমি খুব শান্ত থাকব। ঘুমানোর আগে আমি সব সময় প্রার্থনা করি এবং বিশ্বাস করি, সঠিক সময়ে সবকিছুই হবে। আমি এখানে অলৌকিক কিছু করতে আসিনি। আমি এসেছি দেখাতে যে এন্ড্রিক কে, আর আমার পাশে কারা আছে—আমার পরিবার এবং ঈশ্বর। যদি মাঠে নেমে জাতীয় দলের জন্য কিছু করতে পারি, গোল করতে পারি, তাহলে আমি চাই মানুষ জানুক, এটা শুধু আমার একার কৃতিত্ব নয়; ঈশ্বর আমাকে যে শক্তি দিয়েছেন, সেটাও এর অংশ।’

Advertisement

জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া পাকেতার অনুপস্থিতিতে তার জায়গার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন এন্ড্রিক। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) মেডিকেল বিভাগ প্রতিদিন পাকেতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিশ্বকাপে তার আর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

আনচেলত্তি যদি এন্ড্রিককে শুরুর একাদশে রাখেন, তবে সেটিই হবে চলতি বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ শুরু করা। মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি বেঞ্চেই ছিলেন। পরের দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে বিরতির পর পাকেতার পরিবর্তে নেমে দারুণ প্রভাব ফেলেন এবং একাদশে জায়গার লড়াই আরও জমিয়ে তোলেন।

এন্ড্রিক জানান, দলে সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগটিকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। বিশেষ করে নেইমারের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্বকাপ চলাকালীন আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসে নেইমার দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। শুধু ম্যাচেই নয়, অনুশীলন-দলীয় আড্ডা এমনকি অবসর সময়েও তাদের মধ্যে নিয়মিত কথা হয়।

Advertisement

এন্ড্রিক বলেন, ‘নেইমারের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। অনুশীলনের পর আমরা একসঙ্গে সময় কাটাই, তাস খেলি, গল্প করি। ছুটির দিনেও তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। শুধু নেইমারই নয়, মারকুইনস, কাসেমিরো ও আলিসনের মতো অধিনায়কসুলভ খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও শেখার চেষ্টা করি। তাদের অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুব মূল্যবান। পালমেইরাসে থাকাকালেও গুস্তাভো গোমেজের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নিতাম। বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ মানুষের কাছাকাছি থাকলে সব সময়ই কিছু শেখা যায়। আমি নেইমারের পাশেই বসি এবং তার কাছ থেকে যতটা সম্ভব শেখার চেষ্টা করছি, যাতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে তা কাজে লাগাতে পারি।’

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর একাদশ এখনও গোপন রেখেছেন কোচ আনচেলত্তি। তবে একাদশে থাকুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন, এন্ড্রিকের লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা আরও শক্ত করা।

আরআর/এমএমআর