শক্তি ও সামর্থের বিচারে মিশরই এগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে। তার প্রমাণও তারা দিয়েছে মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায়। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত এক হেডে ১-০ গোলে এগিয়ে গেছে মিশর। যদিও ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। মিশরের চেয়ে ভালো খেলেছে অস্ট্রেলিয়াই; কিন্তু গোলটাই বের করতে পারেনি তারা।
Advertisement
শুরুতে আক্রমণে দাপট দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একবার বল লেগেছে ক্রসবারেও। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল দিয়ে প্রথম গোল হজম করেছে সকারুজরা। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত হেডেই বিরতির আগে পার্থক্য গড়ে দেয় হোসাম হাসানের শিষ্যরা। এই ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিশর।
আরলিংটনে ম্যাচের শুরু থেকেই সতর্ক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে অস্ট্রেলিয়া। পঞ্চম মিনিটে আলেসান্দ্রো সিরকাতির পাস থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন ক্রিশ্চিয়ান ভলপাতো। গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি সকারুজরা।
এর দুই মিনিট পর জর্ডান বস বক্সে ঢুকে শট নিতে গেলে শেষ মুহূর্তে অসাধারণ ট্যাকলে নিশ্চিত বিপদ সামাল দেন রামি রাবিয়া। এরপরও আক্রমণের ধার বজায় রাখলেও গোলের দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ১১তম মিনিটে মিশরের গোলরক্ষক শুবিরের একটি ভুলে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটিয়ে ওঠেন তিনি।
Advertisement
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মিশর। ১৩তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে প্রথম আক্রমণ ব্যর্থ হলেও বল আবারও পেয়ে ডান দিক থেকে চমৎকার ক্রস করেন করিম হাফেজ। বক্সের পেছনের পোস্টে দারুণভাবে উঠে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন ইমাম আশুর। চলতি বিশ্বকাপে এটি আশুরের দ্বিতীয় গোল, আর সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর।
গোলের পর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ১৭তম মিনিটে ওমর মারমোশের শট গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে ঠেকিয়ে দেন হ্যারি সাউত্তার। ২১তম মিনিটে হামদি ফাথির দারুণ থ্রু পাসে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তফা জিকো। যদিও তিনি বল বাইরে মারেন, পরে অফসাইডের পতাকাও ওঠে।
২৩ মিনিটে দেয়া হাইড্রেশন বিরতির পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ৩২তম মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ফ্রি-কিক আদায় করেন। সেই সেট-পিস থেকে সাউত্তারের প্রচেষ্টা পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি মিশরের রক্ষণভাগ, তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটিয়ে ওঠে তারা।
৩৫তম মিনিটে আজিজ বেহিচ উইং দিয়ে উঠে ক্রস তুললেও তা থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। এক মিনিট পর ইরানকুন্ডার পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন বেহিচ, কিন্তু সহজেই বল তালুবন্দি করেন শুবির।
Advertisement
শেষ ১০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায়। ৩৮তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার দুর্দান্ত ট্যাকলে বসের বিপজ্জনক ক্রস থামিয়ে দেন। এরপর কর্নার থেকেও কিছু করতে পারেনি সকারুজরা।
যোগ করা সময়ে আবারও দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন ভলপাতো। তবে এবারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। অন্যদিকে মিশরের রক্ষণে রামি রাবিয়া ও ইয়াসের ইব্রাহিম ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স ও এয়ারিয়াল ডুয়েলে জিতে অস্ট্রেলিয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও দুশ্চিন্তার খবর আসে। দলের অন্যতম ভরসার খেলোয়াড় জর্ডান বস পায়ে চোট পেয়ে মাঠে পড়ে যান। বিরতির সময় তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রথম ৪৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল করার মতো ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে ইজিপ্ট তুলনামূলক কম সুযোগ পেয়েও সেটিকে গোলে পরিণত করেছে। ইমাম আশুরের সেই হেডারেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোর পথে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল।
আইএইচএস/